web analytics

সেরা ছবির সেরা তালিকা


Reading Time: 6 minutes

সেরা ছবির অনেকগুলো তালিকা আছে এখানে। ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সটিটিউটের প্রকাশনা সাইট অ্যান্ড সাউন্ড তালিকাগুলো করেছে। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হচ্ছে, মূল তালিকার বাইরে আরেকটি তালিকা আছে। কারণ মূল তালিকায় ১৯৬৮ সালের পর আর কোনো ছবি স্থান পায়নি। ফলে ১৯৬৮ সালের পর মুক্তি পাওয়া ছবিগুলো থেকে আরেকটি সেরা ছবির তালিকা করা হয়েছে।

সাইট অ্যান্ড সাউন্ড ১৯৫২ সাল থেকে প্রতি ১০ বছর পর পর বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্রের একটি জরিপ করে। এখানে ভোট নেওয়া হয় বিশ্বের বড় বড় পরিচালক ও সমালোচকদের। এ কারণে এই জরিপটির একটি গ্রহনযোগ্যতা তৈরি হয়েছে। ১৯৫২ সালের প্রথম জরিপে সেরা চলচ্চিত্র হয়েছিল ভিত্তোরিও ডি সিকোর বাইসাইকেল থিভস। এরপর থেকে প্রতিবারই প্রথম স্থানে ছিল অরসেন ওয়েলস-এর সিটিজেন কেইন।
মজার ব্যাপার হলো ১৯৮২ সালের আগ পর্যন্ত ভার্টিগো তালিকাতেই স্থান পায়নি। যদিও ভার্টিগো ১৯৫৮ সালের সিনেমা। আবার ভার্টিগো মুক্তি পাওয়ার পরও কিন্তু ছবিটি তেমন আলোচিত ছিল না। সমালোচকদের দৃষ্টিতে পড়েনি, বক্স অফিসেও সাফল্য পায়নি। অথচ ভার্টিগো এখন সেরা চলচ্চিত্র।
tokyo story_0.jpg
বিশ্বের ৭৩টি দেশের ৮৪৬ জন সমালোচক, পরিচালক, বিশেষজ্ঞ, লেখক ও প্রদর্শকদের ভোটে এই তালিকা তৈরি করা হয়েছে। সারা বিশ্বের ২০৪৫টি ছবির মধ্য থেকে বেছে নেওয়া হয়েছে সেরা ছবি। মোট ২৫০টি সেরা ছবির তালিকা করা হয়েছে। এর মধ্যে সেরা ১০ এখানে দেওয়া হল। কোরবানির ঈদের ছুটিতে নিশ্চই এই তালিকা কাজে লাগবে। বলে রাখা ভাল, ২৫০ ছবির তালিকায় ভারতের তিনটি ছবি স্থান পেয়েছে, পথের পাঁচালি, অপুর সংসার এবং জলসাঘর। তিনটিই বাংলা, এবং সত্যজিত রায়ের।
stalker.jpg
বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্র কোনটি। এতোদিন সবাই চোখ বন্ধ করে বলতেন সিটিজেন কেইন। কিন্তু এখন আর সেটি বলা যাচ্ছে না। এখন থেকে বলতে হবে বিশ্বের সেরা চলচ্চিত্রটির নাম আলফ্রেড হিচককের রহস্য-রোমাঞ্চ থ্রিলার ভার্টিগো।
mulholland-drive.jpg

সেরা ১০
সেরা দশের মধ্যে তিনটিই হচ্ছে নির্বাক ছবি। দুটি ৬০ এর দশকের। ১৯৬৮ সালের পর মুক্তি পাওয়া কোনো ছবি স্থান পায়নি সেরা ১০ এর তালিকায়।
১. ভার্টিগো (১৯৫৮)। আলফ্রেড হিচককের সেরা ছবি। অবসর নেওয়া একজন ডিটেকটিভের গল্প। উচ্চতা ভীতির কারণে অবসর নিয়েছেন। তাঁকেই নিযুক্ত করা হয় এক মহিলাকে অনুসরণ করার। জেমস স্টুয়ার্ট ও কিম নোভাক মূল অভিনেতা ও অভিনেত্রী।

Vertigo.jpg

২. সিটিজেন কেইন (১৯৪১)। অরসেন ওয়েলস এর এই ছবিটি সমালোচকদের খুব পছন্দের। চার্লস ফস্টার কেইন নামের একজন নিউজপেপার ম্যাগনেটের জীবন নিয়ে ছবি। মূল ভূমিকায় অরসেন ওয়েলস নিজেই। এটাই পরিচালকের প্রথম ছবি।

Citizen_Kane_(1941).jpg

৩. টোকিও স্টোরি (১৯৫৩)। জাপানের সেরা পরিচালক ওজু ইয়াসিজিরোর মাস্টারপিস হিসেবে বহুল আলোচিত ছবি। বৃদ্ধ বাবা-মা শহরে আসেন ছেলে মেয়েদের দেখতে। কিন্তু সবাই ব্যস্ত। সময় দেয় বিধবা পুত্রবধু।
৪. দি রুলস অফ দি গেম (১৯৩৯): ফরাসী ছবি। পরিচালক জ্য রেনেয়ার। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঠিক আগে ফ্রান্সের উচ্চবিত্তদের সমাজের চিত্র এই ছবি।
৫. সানরাইজ: টেল অব টু হিউম্যান (১৯২৭): নির্বাক ছবি। মার্কিন চলচ্চিত্র হলেও পরিচালক এফ ডব্লিউ মুরনাউর একজন জার্মাণ। নির্বাক ছবি হলেও কোনো তালিকা থেকেই বাদ দেওয়া যায় না সানরাইজকে।
৬. ২০০১: এ স্পেস ওডিসি (১৯৬৮): সেরা পচিালকদের একজন স্টানলি কুব্রিক। মার্কিন এই পরিচালকের সিনেমা মানেই নতুন কিছু। বৈজ্ঞানিক কল্প কাহিনীর এই ছবির মূল গল্প আর্থার সি ক্লার্কের।
৭. দি সার্চার্স (১৯৫৬): জন ফোর্ডের পরিচালনায় এই সিনেমাটি ওয়েস্টার্ণ ঘরানার। সেরা ওয়েস্টার্ন ছবির তালিকার সবসময়েই প্রথম স্থানে থাকে দি সার্চার। জন ওয়েন মূল ভূমিকায়।
৮. দি মান উইথ দি মুভি ক্যামেরা (১৯২৯): রাশিয়ার চলচ্চিত্র। পরিচালক ডিগা ভার্টব। মূলত এটি একটি ডকুমেন্টারি। নির্বাক এই ছবিতে নির্দিষ্ট কোনো পাত্র পাত্রী নেই, কোনো গল্পও নাই।
৯. প্যাশন অব জোয়ান আর্ক (১৯২৭): আরেকটি নির্বাক ছবি। এটি ফ্রান্সের। কার্ল থিয়োডর ড্রেয়ারের এই ছবিটি জোয়ান অব আর্কের বিচার নিয়ে।
১০. এইট অ্যান্ড হাফ (১৯৬৩): ইতালির ছবি, পরিচালক ফেডেরিকো ফেলিনি। মূলত এক পরিচালকের ছবি করতে না পারার গল্প। ‘ক্রিয়েটিভ ব্লক’ এর বিষয়বস্তু।

সেরা ছবি: ১৯৬৮ সালের পর

সেরা তালিকায় ১৯৬৮ সালের পর কোনো ছবি স্থান পায়নি। ফলে ১৯৬৮ সালের পর মুক্তি পেয়েছে এমন সেরা ১০ ছবির তালিকাও করেছে সাইট অ্যান্ড সাউন্ড।
apocalypse_now_.jpg
১. ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপালার অ্যাপাকালিপস নাউ, ২. রাশিয়ার আন্দ্রেই তারকোভস্কির দি মিরর, ৩. ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপালার দি গড ফাদার-১, ৪. হংকং-এর পরিচালক ওং কার ওয়াই-এর ইন দ্য মুড ফর লাভ, ৫. ডেভিড লিঞ্চের মূলহল্যান্ড ড্রাইভ, ৬. আন্দ্রেই তারকোভস্কির স্টলকার, ৬. ফ্রেঞ্চ ডকু সোয়া (হলোকস্ট নিয়ে), ৮. গড ফাদার-২, ৮. মার্টিন স্করসিজের ট্যাক্সি ড্রাইভার, ১০. বেলজিয়ান পরিচালক চানতাল একেরম্যান-এর জিন ডেইলম্যান, ২৩ কমার্স কুয়েই, ১০৮০ ব্রাসেলস, ১০. হাঙ্গেরির পরিচালক বেলা তারের সাতানস ট্যাঙ্গো।
breathless.jpg
সেরা ছবি: জীবিত পরিচালকদের
১. জ্যঁ লুক গদারের ব্রেথলেস, ২. ফ্রান্সিস ফোর্ড কাপালার অ্যাপাকালিপস নাউ, ৩. জিন কেলি ও স্টানলি ডোনেনের সিংগিং ইন দ্য রেইন, ৪. জঁ লুক গদারের কনটেমপ্ট, ৪. দি গড ফাদার-১, ৬. ইন দি মুড ফর লাভ, ৭. মুলহল্যান্ড ড্রাইভ, ৮. সোয়া, ৯. দি গড ফাদার-২, ৯. ট্যাক্সি ড্রাইভার।
in-the-mood-for-love-poster.jpg

সেরা ছবি: পরিচালকদের ভোটে
১. টোকিও স্টোরি, ২. ২০০১: এ স্পেস ওডিসি, ৩. সিটিজেন কেইন, ৪. এইট অ্যান্ড হাফ, ৫. ট্যাক্সি ড্রাইভার, ৬. অ্যাপাক্যালিপস নাউ, ৭. ভার্টিগো, ৭. গড ফাদার-১, ৯. মিরর, ১০. বাইসাইকেল থিভস।
John-Wayne-john-wayne-8374625-1504-1082.jpg

সেরা ছবি: ২০০২ সালের তালিকা
১. সিটিজেন কেইন, ২. ভার্টিগো, ৩. রুল অফ দি গেম, ৪. দি গড ফাদার-১, ৫. টোকিও স্টোরি, ৬. ২০০১: এ স্পেস ওডিসি, ৭. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ৭. সানরাইজ, ৯. এইট অ্যান্ড হাফ, ১০. সিংগিং ইন দ্য রেইন
2001_space_odyssey_1968.jpg
সেরা ব্রিটিশ ছবি
১. দি থার্ড ম্যান, ২. লরেন্স অফ অ্যারাবিয়া, ৩. এ ম্যাটার অফ লাইফ অ্যান্ড ডেথ, ৪. দি লাইফ অ্যান্ড ডেথ অফ কর্নেল ব্লিম্ফ, ৫. পারফরমেন্স, ৬. এ ক্যান্টারবুরি টেল, ৬. দি রেড সুজ, ৮. ডোন্ট লুক নাউ, ৯. ব্লাক নার্সিসাস, ৯. ব্রিফ এনকাউন্টার, ৯. ডিসট্যান্ট ভয়েসেস, স্টিল লিভ
Godfather-poster.jpg
সেরা ওয়েস্টার্ন
১. দি সার্চার্স, ২. রিও ব্রাভো, ৩. ওয়ান্স আপন এ টাইস ইন দি ওয়েস্ট, ৪. দি ওয়াইল্ড বাঞ্চ, ৫. দি ম্যান হু শট লিবার্টি ভ্যালেঞ্চ, ৬. মাই ডার্লিং ক্লিমেনটাইন, ৬. রেড রিভার, ৮. দি গুড, দি ব্যাড অ্যান্ড দি আগলি, ৮. জনি গিটার, ৮. ওয়াগন মাস্টার
a man with movie camera.jpg
সেরা ছবি: ১৯৫২ সালের জরিপ
১. বাইসাইকেল থিভস, ২. সিটি লাইটস, ২. দি গোল্ড রাশ, ৪. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ৫. ইনটলারেন্স, ৫. লুজিয়ানা স্টোরি, ৭৭. গ্রিড, ৭. ডে ব্রেক (লে জুর সে লেভে), ৭. দি প্যাশন অফ জোয়ান অফ আর্ক, ১০. ব্রিফ এনকাউন্টার, ১০. দি রুলস অব দি গেম, ১০. লে মিলিয়ন
Jeanne Dielman, 23 quai du Commerce, 1080 Bruxelles.jpg

সেরা ছবি: ১৯৬২ সালের জরিপ

১. সিটিজেন কেইন, ২. দি এডভেঞ্চার (ইতালি), ৩. দি রুলস অফ দি গেম, ৪. গ্রিড, ৪. উজেতসু মনোগাতারি (জাপান), ৬. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ৭. বাইসাইকেল থিভস, ৮. ইভান দ্য টেরিবল (রাশিয়া), ৯. লা তেরা ত্রেমা (ইতালি), ১০. লা আতালান্তে (ফরাসী)
shoah.jpg

সেরা ছবি: ১৯৭২ সালের জরিপ

১. সিটিজেন কেইন, ২. দি রুলস অফ দি গ্রেম, ৩. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ৪. এইট অ্যান্ড হাফ, ৫. দি এডভেঞ্চার, ৬. পারসোনা, ৭. দি প্যাশন অফ জোয়ান আর্ক, ৮. দি জেনারেল, ৮. দি ম্যাগনেফিসেন্ট এমবারসনস, ১০. উজেতসু মনোগাতারি, ১০. ওয়াইল্ড স্ট্রবেরিস
taxi-driver.jpg

সেরা ছবি: ১৯৮২ সালের জরিপ

১. সিটিজেন কেইন, ২. দি রুলস অফ দি গেম, ৩. সেভেন সামুরাই, ৪. সিংগিং ইন দ্য রেইন, ৫. এইট অ্যান্ড হাফ, ৬. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ৭. দি এডভেঞ্চার, ৭. দি ম্যাগনেফিসেন্ট এমবারসনস, ৭. ভার্টিগো, ১০. দি জেনারেল, ১০. দি সার্চার্স
mirror.gif

সেরা ছবি: ১৯৯২ সালের তালিকা

১. সিটিজেন কেইন, ২. দি রুলস অফ দি গেম, ৩. টোকিও স্টোরি, ৪. ভার্টিগো, ৫. দি সার্চার্স, ৬. লা আতালান্তে, ৬. দি প্যাশন অফ জোয়ান অফ আর্ক, ৬. পথের পাচালি, ৬. ব্যাটেলশিপ পটেমকিন, ১০. ২০০১: এ স্পেস ওডিসি

Loading

রেটিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *