web analytics

আমার নতুন বই: কেলেঙ্কারির অর্থনীতি


Reading Time: 3 minutes

কেলেঙ্কারির অর্থনীতি: বাংলাদেশের অর্থনীতির পেছনের অনর্থনীতি। বইটি হালনাগাদকৃত সংস্করণ।

প্রকাশক: ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড

ভূমিকায় আমি লিখেছি

লেখকের কথা

সাংবাদিকতার জীবন ৩২ বছরের। বলা যায় এ সময়ে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে অনেকটাই কাছ থেকে দেখতে হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, শেয়ারবাজার, বাণিজ্য-বলতে গেলে সব বিষয়েই রিপোর্ট করেছি। সাক্ষী ছিলাম বহু ঘটনার। সে সব ঘটনা লেখার ইচ্ছা থেকেই এই বইটি লেখা।

বাংলাদেশের অর্থনীতির দুটি চিরস্থায়ী সংকটের নাম হচ্ছে খেলাপি ঋণ ও কালো টাকা। আর ব্যাংক ও শেয়ারবাজার হচ্ছে দেশের অর্থনীতি ও অনর্থনীতি-দুটোরই অন্যতম উৎস। ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসে আওয়ামী লীগ সরকার। অনেকেরই আশা ছিল ২০০৭ ও ২০০৮ সালের সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অবসানের পরে অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। শিক্ষা নেবেন সরকার ও অর্থনীতির সরকারি-বেসরকারি কুশীলবেরা। কিন্তু বাস্তবে সেটি ঘটেনি। এমন নয় যে এর আগে দেশে ঋণ কেলেঙ্কারি বা শেয়ারবাজারের পতন ঘটেনি। তবে একই সরকারের সময় দ্বিতীয়বারের মতো শেয়ারবাজার কেলেঙ্কারি হবে, এটি কেউ আশা করেননি। আর হল-মার্ক ঋণ কেলেঙ্কারির ঘটনা দেখে তখন মনে হয়েছিল এর চেয়ে বড় এবং অভিনব আর্থিক কেলেঙ্কারি ঘটান কখনোই সম্ভব হবে না। এমনকি পদ্মা সেতু নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে যে টানাপোড়েন-সেটিও ছিল বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা।

একজন সাংবাদিক হিসেবে এসব ঘটনা নিয়ে নিয়মিত রিপোর্ট করতে হয়েছিল। তখন পেছনের অনেক ঘটনার কথা জানার সুযোগ হয়। হাতে এসেছিল নানা ধরনের গোপন নথি। সবকিছু মিলিয়েই ২০১২ সালে লিখেছিলাম এই বই-কেলেঙ্কারির অর্থনীতি। নামটি নিয়ে তখনই একটু দ্বিধা ছিল। মনে হয়েছিল কয়েকটি ঘটনার কারণে দেশের অর্থনীতির সঙ্গে কেলেঙ্কারি কথাটা যুক্ত করাটা হয়তো বাড়াবাড়ি হয়ে যাবে। ২০১৩ সালে বইটি প্রকাশের পরে প্রায় ১২ বছর কেটে গেছে। এর মধ্যে অর্থনীতির জগতে এত ঘটনা ঘটেছে, যে এখন মনে হচ্ছে কেলেঙ্কারির অর্থনীতি নামটিই সার্থক। বিশেষ করে রাষ্ট্রীয় মদদে যেভাবে লুটপাট হয়েছে, তাতে নামকরণ নিয়ে সন্দেহ থাকার কোনো কারণ নেই। তবে এর সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতকে যুক্ত করা হলে অর্থনীতির পেছনের অর্থনীতির পুরো ঘটনা এক মলাটে রাখা সম্ভব হতো। এটাই এই গ্রন্থের একটি ঘাটতি বলা যায়।

বইটির প্রথম সংস্করণ বের হয়েছিল ২০১৩ সালে, ‘শুদ্ধস্বর’ থেকে। প্রকাশক আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুল ভাই জঙ্গি হামলার পরে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ফলে বইটিও আর বাজারে নেই। মনে আছে প্রকাশের পরপরই দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)-এর প্রতিষ্ঠাতা ইমেরিটাস প্রকাশক মহিউদ্দিন আহমেদ আমার লেখা একটি বই প্রকাশের কথা বলেছিলেন। কিন্তু সে সুযোগ আর হয়নি। পেশাগত ব্যস্ততা এর প্রধান কারণ।

বইটির নতুন সংস্করণ বের হলো মূলত মাহরুখ মহিউদ্দীন ও ফিরোজ আহমেদের গভীর আগ্রহের কারণে। তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। তবে এখন এটিকে সাদামাটাভাবে দ্বিতীয় সংস্করণ বলা ঠিক হবে না। কেননা, গত এক যুগে অর্থনীতিতে অনেক ধরনের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে শেখ আবদুল হাই বাচ্চু সরকারি খাতের সবচেয়ে ভালো ব্যাংক বেসিক ব্যাংককে এককভাবে ধ্বংস করেছেন। সরকারি মদদে সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এস আলম ইসলামী ব্যাংক দখল করেছেন। সেই দখল তিনি মোটামুটি অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছিলেন। ব্যাংক খাতে একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারি হয়েছে। সব কেলেঙ্কারির বিবরণ দিয়েই নতুন একটি বই লেখা সম্ভব। আর্থিক খাত ভালো রাখা যাদের কাজ, সেসব নিয়ন্ত্রক সংস্থাই এ সময় হয়ে উঠেছিল লুটপাটের সহায়তাকারী। ভালো বা মন্দ, সরকারের সর্বোচ্চ মহল ছিল সবকিছুর মূল পৃষ্ঠপোষক। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনা ছিল চরমে। আর এর ফল ভোগ করতে হয়েছে সাধারণ মানুষকে। এ সময়ে উচ্চ মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবনযাত্রার মানকে কমিয়ে দিয়েছে।

বইটির নতুন সংস্করণে গত এক যুগে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া অর্থনীতি ও অনর্থনীতির সব ঘটনাকে স্থান দেওয়া হয়েছে। বলা যায়, ২০২৪ সাল পর্যন্ত সর্বশেষ তথ্য যুক্ত করা হয়েছে। এ জন্য নতুন একটি পদ্ধতি নিয়েছি। মোট ছয়টি অধ্যায় রয়েছে। এর পাশাপাশি প্রথাগত ভূমিকা না লিখে ভূমিকার বদলে নামে একটি লেখা শুরুতে দিয়েছিলাম। প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রথম সংস্করণে প্রকাশিত প্রতিটি লেখা একই রাখা হয়েছে। আর সর্বশেষ তথ্যসহ নতুন একটি লেখা প্রতিটি অধ্যায়ের শেষে যুক্ত করা হয়েছে। আশা করছি এতে পাঠকেরা ভিন্ন একটি স্বাদ যেমন পাবেন, একই সঙ্গে হালনাগাদ তথ্যও জানতে পারবেন।

সবাইকে শুভেচ্ছা।

জানুয়ারি ২০২৫, ঢাকা।

প্রকাশকের পক্ষ থেকে বইটির ফ্ল্যাপে যা লেখা

অর্থনীতি কেলেঙ্কারিময় হলে রাষ্ট্র ও সমাজ কতটা বিপদগ্রস্ত হয়, বাংলাদেশে তা কারোই অজানা নেই। রাজনৈতিক শক্তিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খেলাপি ঋণ ও অবৈধ অর্থের যে প্রতিপত্তি তৈরি করা হয়েছে, এবং ব্যাংক ও শেয়ারবাজার লুণ্ঠনের মাধ্যমে যে বিশাল লুটেরা ধনিকশ্রেণি গড়ে উঠেছে-এই গ্রন্থটি তারই একটি প্রামাণিক বিবরণ।

শওকত হোসেন মাসুম দীর্ঘদিন গণমাধ্যমে অর্থনীতি বিষয়ে সাংবাদিকতা করেছেন। তাঁর নিজস্ব অনুসন্ধান ও গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি হওয়া প্রতিবেদনগুলোকে গ্রন্থাকারে রূপ দেওয়া হয়েছে কেলেঙ্কারির অর্থনীতি গ্রন্থে।

পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনই শুধু নয়, সংশ্লিষ্ট গবেষণাপত্র, হাইকোর্টের রায় এবং গ্রন্থাদির বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা উপস্থাপনের মাধ্যমে লেখক বইটিকে সকল সময়ের জন্য প্রাসঙ্গিক করে তুলেছেন। সদ্যপতিত সরকারের দুর্নীতির সাম্প্রতিক বিবরণ যুক্ত করার মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে সর্বাধিক কেলেঙ্কারির সময়টির একটি বিস্তারিত পর্যালোচনা এ বইটিতে উঠে এসেছে। অর্থনীতি বিষয়ে আগ্রহী সাধারণ পাঠক, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য বইটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। লেখকের সৃজনশীল লেখন-কৌশলের কারণে অর্থনীতি-সংক্রান্ত গুরুগম্ভীর আলোচনার বইটি সকল ধরনের পাঠকের জন্য সহজবোধ্য, সুপাঠ্য এবং কৌতূহলোদ্দীপক।

বইটি অনলাইনে পাবেন প্রকাশক ইউপিএলে। অনলাইনে কিনতে পারবেন ইউপিএল ও রকমারিতে।

ইউপিএলের লিঙ্ক:

https://uplbooks.com/shop/9789845065658-22529?page=8&category=836#attr=

রকমারির লিঙ্ক:

https://www.rokomari.com/book/458457/kelengkarir-orthonite

Loading

রেটিং

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *