এক ডজনেরও বেশি প্রিয় সিনেমা

  • 3
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

ঘরবন্দী জীবনে কি সিনেমা দেখবেন-এ নিয়ে আমাদের প্রথম আলোর বিনোদন পাতার জন্য জন্য গত এপ্রিলে বেশ কয়েকটি লেখা তৈরি করেছিলাম। সে সময়ের চারটা লেখা একসঙ্গে করে ব্লগে রাখলাম।  

গোয়েন্দারা যখন রহস্য উদ্ধারে আসেন

চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে ২০১৯ সাল খুব প্রিয়। অসংখ্য ভালো সিনেমা, বক্স অফিস সাফল্য, সমালোচকদের অকুণ্ঠ প্রশংসা—সবকিছুই ছিল। ২০১৯ সালের কোন সিনেমা দেখবেন আর কোনটা দেখবেন না, বলা খুব কঠিন। তবে আজ একটি বিশেষ ঘরানার সিনেমার কথা বলব বলে কাজটি একটু সহজ করে নিচ্ছি। রহস্য-রোমাঞ্চ যাঁরা পছন্দ করেন তাঁদের জন্যই এই লেখা, বিশেষ করে গোয়েন্দা কাহিনি। খুব পরিষ্কার করলে ‘প্রাইভেট ডিটেকটিভ’। সবাই নিশ্চয়ই একমত হবেন যে এ বিষয়ে সাম্প্রতিক সময়ের সেরা সিনেমা ‘নাইভস আউট’। ড্যানিয়েল ক্রেগের ভক্ত এখন অসংখ্য। এখন পর্যন্ত ‘জেমস বন্ড’ যাঁরাই হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অভিনেতা হিসেবে সবার ওপরে ক্রেগ। ক্রেগ ভক্তরা নাইভস আউট দেখতে পারেন ঘরবন্দী এ সময়ে।

হারল্যান থ্রমবে রহস্য উপন্যাসের লেখক। হারল্যান আবার খুবই ধনী, অগাধ সম্পত্তির মালিক। ৮৫তম জন্মদিনের পার্টি শেষে পরের দিন খুব ভোরে দেখা গেল গলা কাটা অবস্থায় মরে পড়ে আছেন হারল্যান। পুলিশের ধারণা, এটি আত্মহত্যা। কিন্তু পরিবারের কেউ জানেন না নামকরা গোয়েন্দা বেনোয়েট ব্ল্যাঙ্ককে গোপনে হারল্যানের হত্যারহস্য তদন্তে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। শেষের দিকে ছেলেমেয়েদের সঙ্গে যে নানা বিষয়ে সমস্যা হচ্ছিল, তা-ও সত্যি। আর ছিল অল্পবয়সী এক নার্স। কিছুক্ষণের মধ্যেই কিন্তু জানা যায়, কীভাবে মারা গেলেন হারল্যান। কিন্তু সবাই যা জানে, সব প্রমাণ যখন সামনে, তখন প্রশ্ন একটাই—খুনি কি ধরা পড়বে? নাকি রহস্য আরও আছে। আপনি শুধু একবার দেখতে বসবেন, সিনেমার গল্পই আপনাকে টেনে নিয়ে যাবে।

গোয়েন্দা গল্প মানেই শার্লক হোমস, আগাথা ক্রিস্টি বা ব্যোমকেশ কিংবা ফেলুদা। এসব গল্প নিয়ে অসংখ্য সিনেমা হয়েছে, সামনে আরও হবে। সেসব সিনেমা নিয়ে আরেক দিন লেখা যাবে। বরং ভালো অভিনয়ের প্রসঙ্গ যখন এলই, তখন জ্যাক নিকলসনের একটি গোয়েন্দা সিনেমার কথা না বললেই নয়। রোমান পোলনস্কির চায়নাটাউন তুমুল বিখ্যাত এক সিনেমা। সর্বকালের সেরা সিনেমার তালিকায় এটি থাকবেই।

জ্যাক গিটস একজন বেসরকারি গোয়েন্দা। এভেলিন নামের এক নারী তাকে নিয়োগ দেয় তারই স্বামীর ওপর নজরদারির জন্য। মেয়েটির স্বামী হলিস লস অ্যাঞ্জেলেসের পানি ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী। জ্যাক গিটস অচেনা এক নারীর সঙ্গে তোলা ছবি এনে দেন এভেলিনকে। পরের দিন পত্রিকায় সেই ছবি ছাপাও হয়। কিন্তু হলিসের প্রকৃত স্ত্রী দেখা দিলে জ্যাক বুঝতে পারেন, তাকে ব্যবহার করা হয়েছে। আর হলিসের লাশ পাওয়া গেলে ঘটনা মোড় নেয় অন্যদিকে। পরিচালনা, অভিনয় বা চিত্রনাট্য—সব দিক থেকেই চায়নাটাউন সিনেমাজগতের ‘লিজেন্ড’ হিসেবে পরিচিত। এর একটি ভালো হিন্দি সংস্করণ আছে, মনোরমা সিক্স ফিট আন্ডার।

অসংখ্য বেসরকারি গোয়েন্দা গল্পের সিনেমার মধ্য থেকে সব শেষে বেছে নিতে চাই ক্লুটকে। জেন ফন্ডা ও ডোনাল্ড সাদারল্যান্ডের প্রতি খানিকটা পক্ষপাতিত্ব তো আছেই, তবে নিঃসন্দেহে সিনেমা হিসেবেও ক্লুট খুবই উপভোগ্য। জেন ফন্ডা এই সিনেমা থেকে সেরা অভিনেত্রীর অস্কার পেয়েছিলেন। টম গ্রুনমান একটি কেমিক্যাল কোম্পানির একজন নির্বাহী। একদিন তিনি নিখোঁজ হয়ে গেলেন। পুলিশ তাঁর অফিস থেকে উদ্ধার করল অশ্লীল কিছু চিঠি, আর সেখানে ঠিকানা দেওয়া আছে নিউইয়র্কের এক যৌনকর্মী ব্রি ড্যানিয়েলসের (জেন ফন্ডা)। ছয় মাস তদন্ত করেও রহস্যের কিনারা করতে পারল না পুলিশ। তখন সেই কেমিক্যাল কোম্পানির এক কর্মকর্তা নিয়োগ দিলেন বেসরকারি গোয়েন্দা জন ক্লুটকে (সাদারল্যান্ড)। এরপরের গল্পটা জানতে না হয় সিনেমাটিই দেখে ফেলুন।

রোমান পোলনস্কির চায়নাটাউন তুমুল বিখ্যাত এক সিনেমা।আগেই বলেছি, বেসরকারি গোয়েন্দাগিরি নিয়ে সিনেমার সংখ্যা কম নয়। আগ্রহীরা হ্যামফ্রে বোগার্টের দ্য বিগ স্লিপ, দ্য লং গুডবাই বা পল নিউম্যানের হারপারও দেখতে পারেন।

নায়ক যেখানে নায়িকার রূপে

সেরা কমেডি সিনেমার তালিকা করলে কিছু নাম এমনিতেই চলে আসে। এর মধ্যে সবার আগে হয়তো আসবে সাম লাইক ইট হট সিনেমাটির নাম। আমেরিকান ফিল্ম ইনস্টিটিউটের মতে, এটি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মার্কিন কমেডি চলচ্চিত্র। এর পরিচালক বিলি ওয়াইল্ডার। আরেকটু আগ্রহ বাড়াতে আরও দুটি তথ্য দিই। যেমন, এই সিনেমায় আছেন মেরিলিন মনরো এবং তিনি সেরা অভিনেত্রীর গোল্ডেন গ্লোব পেয়েছিলেন। অভিনেত্রী হিসেবে এটাই ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি। এর মূল অভিনেতা জ্যাক লেমন ও টনি কার্টিস।

‘সাম লাইক ইট হট’–এর বৈশিষ্ট্য অবশ্য আরেকটি কারণে। সিনেমার বেশির ভাগ অংশেই জ্যাক লেমন ও টনি কার্টিসকে মেয়ে সেজে থাকতে হয়। দুজনেই গানের মানুষ। একদিন এক খুনের দৃশ্য দেখে ফেলেন তাঁরা। তারপর লুকিয়ে থাকতে মেয়েদের এক ব্যান্ড দলের মধ্যে মেয়ে সেজে ভিড়ে যান দুজন। মেরিলিন মনরো আবার এই দলের মূল শিল্পী। প্রেমে পড়ে যান দুজনেই। সিনেমার শেষের একটি সংলাপ তুমুল বিখ্যাত। ‘ওয়েল, নোবডি ইজ পারফেক্ট’—এ সংলাপটি কে কেন বলেছিলেন, তা জানতে হলে দেখতে হবে সিনেমাটি।

বলে রাখা ভালো, ‘সাম লাইক ইট হট’-এর মূল গল্পটা কিন্তু এক ফ্রেঞ্চ সিনেমা থেকে নেওয়া। ফ্যানফেয়ার অব লাভ ১৯২৫ সালের সিনেমা। এই গল্প ধরে প্রায় একই নামে জার্মানরা সিনেমা বানায় ১৯৫১ সালে। আর ‘সাম লাইক ইট হট’ ১৯৫৯ সালের। এর কিন্তু একটি হিন্দি ভার্সনও আছে—‘রাফু চক্কর’। ঋষি কাপুর ও নিতু সিং। এটিও কিন্তু খুব খারাপ বানায়নি।

মেয়ে সেজে সিনেমার কথাই যখন হলো, তাহলে আজ না হয় এর মধ্যেই থাকি। এ ধরনের সিনেমার মধ্যে অন্যতম সেরা ‘টুটসি’। ডাস্টিন হফম্যানের অভিনয়ের ভক্ত নয়, এমন মানুষ কমই আছে। ১৯৮২ সালে মুক্তি পাওয়া বিখ্যাত এই সিনেমার পরিচালক সিডনি পোলাক। সেরা ছবিসহ ১০টি অস্কার মনোনয়ন পেয়েছিল ‘টুটসি’।

হফম্যান একজন ভালো অভিনেতা। কিন্তু অতিমাত্রায় নিখুঁত কাজ চান। এ কারণে তাঁর সঙ্গে কোনো পরিচালক কাজ করতে চান না। একপ্রকার বেকার অভিনেতা বলা যায়। কাজ পেতে মাইকেল ডরসি (হফম্যান) হয়ে যান ডরোথি মাইকেল। অর্থাৎ মেয়ে সেজে অভিনয় শুরু করেন এবং সফলও হন। সমস্যা শুরু হয় যখন ডরোথি তাঁরই সহ–অভিনেত্রী জুলির (জেসিকা ল্যাং) প্রেমে পড়েন। গল্প বলা, পরিচালনা, অভিনয়—সব দিক থেকেই সেরা ডাস্টিন হফম্যানের ‘টুটসি’। বিশেষ করে কমেডি সিনেমার ভক্তদের তো অবশ্যই দেখা উচিত।

মেয়ে সেজে অভিনয়ের আরেক সেরা সিনেমা হচ্ছে ‘মিসেস ডাউটফেয়ার’। কমেডি সিনেমা নিয়ে আলাপ হবে আর রবিন উইলিয়ামসের সিনেমা থাকবে না, তা তো হয় না। ‘মিসেস ডাউটফেয়ার’কে সর্বকালের সেরা মজার সিনেমা হিসেবেও অনেক সমালোচক মানেন। আর ১৯৯৩ সালে মুক্তি পাওয়ার পর সমালোচকেরা একবাক্যে মেনে নিয়েছিলেন এটি ‘সাম লাইক ইট হট’ ও ‘টুটসি’র পর্যায়ের।

ড্যানিয়েল হিলার্ড একজন বাচিক অভিনেতা। তিন ছেলেমেয়ের বাবা। তবে স্ত্রী মিরান্দা মনে করেন, ড্যানিয়েল মোটেই নির্ভরযোগ্য নন। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। আদালত মায়ের জিম্মায় দেন তিন সন্তানকে। একদিন ড্যানিয়েল জানতে পারেন, মিরান্দা একজন হাউসকিপার খুঁজছেন। ড্যানিয়েল মেকআপ করে হয়ে যান ‘মিসেস ডাউটফেয়ার’। এমনকি চাকরিটিও হয়ে যায়। এরপর ঘটতে থাকে মজার সব ঘটনা।

মেয়ে সেজে অভিনয়ের আরও অনেক সিনেমা আছে। এর মধ্যে ‘নটি প্রফেসর’–এ এডি মার্ফি, ‘বিগ মাম্মা’য় মার্টিন লরেন্স, ‘হেয়ারস্প্রেত’–এ জন ট্রাভল্টার নাম বলা যায়। তবে এর একটিও ‘সাম লাইক ইট হট’, ‘টুটসি’ বা ‘মিসেস ডাউটফেয়ার’–এর পর্যায়ের নয়।

একটু অন্য ব্যাপার-স্যাপারের সিনেমা

আমির খান, রানি ও কারিনা কাপুরের তালাশ দেখেছেন নিশ্চয়ই। মজার কথা হচ্ছে, এই সিনেমা মুক্তির প্রায় ৩০ বছর আগে প্রায় একই ধরনের গল্প নিয়ে ব্রিটিশ পরিচালক নিকোলাস রোয়েগ বানিয়েছিলেন ‘ডোন্ট লুক নাও’। জুলি ক্রিস্টি ও ডোনাল্ড সাদারল্যান্ডের এই সিনেমাকে বলা হয় মডার্ন ক্ল্যাসিক। সেরা ব্রিটিশ মুভির একটি হিসেবে ধরা হয় এটিকে। এটি গথিক ঘরানার মুভি।

গল্প বলার ধরনটা হিচককের মতো অনেকটা। সাদারল্যান্ড ও জুলি দম্পতির মেয়ে মারা যায় পানিতে ডুবে। এর কিছুদিন পর তারা যায় ইতালিতে, কাজে। সেখানে পরিচয় হয় দুই বোনের সঙ্গে। তাদের একজন আবার অন্ধ। অন্ধ বোনটি জানায় তাদের সেই মেয়ে তার মাধ্যমে যোগাযোগ করছে। মেয়েটি বলছে যে সাদারল্যান্ডের সামনে মহাবিপদ, সে যেন দ্রুত ইতালি ছেড়ে চলে যায়।

নানা কারণ বিখ্যাত এই সিনেমা। বিশেষ করে এর একটি দৃশ্যের জন্য এখনো আলোচনা বেশি। ২০১১ সালে ভ্যারাইটি ম্যাগাজিনের সাবেক সম্পাদক পিটার বার্ট একটি বই লিখে বলেছিলেন, তিনি অনেক কিছুর সাক্ষী। এ নিয়ে আরও কিছু জানতে হলে গুগলের শরণাপন্ন হতে পারেন।

কিছু কিছু সিনেমা থাকে, যার প্রভাব নানাভাবে থেকেই যায়। উদাহরণ হিসেবে ‘ইন ব্রুজেস’-এর কথা বলা যায়। ব্রুজেস বেলজিয়ামের একটা জায়গা, সেখানে আত্মগোপনে আসে দুই হিটম্যান রে (কলিন ফারেল) ও কেন (ব্রেন্ডার গ্লেশন)। তারা অপেক্ষা করছে পরবর্তী আদেশের। হ্যারি (র‌্যালফ ফিনেস) তাদের বস। একদিন হ্যারি ফোন করে কেনকে আদেশ দেয় রেকে মেরে ফেলতে। শুরু হয় নতুন গল্প। থ্রিলার হিসেবে দারুণ এই সিনেমাকে ফিল্ম-উইদিন-আ-ফিল্ম বলা যায়। কেননা এর মধ্যে অনেকগুলো সিনেমার উল্লেখ আছে। তবে শেষ দৃশ্য পর্যন্ত অপেক্ষা করলে মনে হবে আসলে এটিও ডোন্ট লুক নাও থেকেই অনুপ্রাণিত।

একটু–আধটু অতিপ্রাকৃতিক ব্যাপারের প্রতি আগ্রহ থাকলে হ্যারিসন ফোর্ড ও মিশেল পেইফারের ‘হোয়াট লাইজ বিনেথ’ দেখে ফেলতে পারেন। অধ্যাপক ড. নর্মান স্পেন্সার একজন বিজ্ঞানী। স্ত্রী ক্লারা ও এক মেয়ে নিয়ে তার সংসার। আর প্রতিবেশী হলো মেরি আর ওয়ারেন। ক্লারার মনে নানা সন্দেহ প্রতিবেশীকে নিয়ে। একদিন মেরিকেও আর দেখা গেল না। ক্লারার সন্দেহ ওয়ারেনই হত্যা করেছে মেরিকে। কিন্তু ক্লারার জীবনে ঘটতে থাকে নানা রহস্যময় ঘটনা। বাথটাব নিজে থেকেই ভরে যায়, আয়নার লেখা থাকে ‘ইউ নো’ কথাটি। এর মধ্যেই আবার দৃশ্যপটে ঢুকে পড়ে ম্যাডিসন, অধ্যাপক নর্মানের ছাত্রী।

সারা কারনোচান নামের এক ডকুমেন্টারি পরিচালক চিকিৎসা করতে আসা এক বয়স্ক দম্পতির অভিজ্ঞতার আলোকে এই সিনেমার গল্পটি তৈরি করেছিলেন। পরিচালক স্টিভেন স্পিলবার্গ তাঁর পরিচালক বন্ধু রবার্ট জেমেরিকের কাছে পাঠিয়ে দেন। জেমেরিক তখন টম হ্যাংকসকে নিয়ে কাস্ট অ্যাওয়ে সিনেমার শুটিং করছিলেন। টম হ্যাংকসের ওজন কমানো ও দাঁড়ি বড় করার জন্য শুটিং বন্ধ রাখতে হয়। এই ফাঁকে বানান হোয়াট লাইজ বিনেথ সিনেমাটি। থ্রিলার হিসেবেও চমৎকার এক সিনেমা।

ভারতীয় বংশোদ্ভূত পরিচালক নাইট শ্যামালন তুমুল হইচই ফেলে দিয়েছিলেন দ্য সিক্সথ সেন্স সিনেমাটি করে। সমালোচকদের যেমন পছন্দ হয়েছিল, বক্স অফিসও মুখ ফেরায়নি। আবার পুরস্কারের তালিকাও কম দীর্ঘ নয়। একজন শিশু মনোবিদ ম্যালকম ক্রো (ব্রুস উইলিস)। কোল সিয়ার একজন কিশোর, মৃতদের সঙ্গে কথা বলতে পারে বলে সে বিশ্বাস করে। ম্যালকম তার চিকিৎসার ভার নেয়। দ্য সিক্স সেন্সের বিপুল সাফল্যের পরে নাইট শ্যামালন আরও অনেক সিনেমা করলেও এটিকে আর ছাড়িয়ে যেতে পারেননি।

তিন দেশের তিন থ্রিলার

কোন কোন দেশ ভালো থ্রিলার ঘরানার সিনেমা বানায়? আপনি হয়তো বলবেন দক্ষিণ কোরিয়ার কথা। আবার স্প্যানিশ থ্রিলারের ভক্তও কম নেই। এমনকি ডেনমার্কের পরিচালকদের থ্রিলার বানানোর বিশেষ খ্যাতি আছে। আজ না হয় এ রকম কিছু ভিনদেশি থ্রিলারের কথা বলি।

‘দ্য সিক্রেট ইন দেয়ার আইস’ ২০০৯ সালের সিনেমা। আমার খুব প্রিয় আর্জেন্টাইন এক থ্রিলার। ভাষাটা স্প্যানিশ। সুতরাং সাবটাইটেল লাগবেই। গল্পটা এ রকম—বেনজামিন একটি উপন্যাস লিখতে চায়, কিন্তু শুরুটা কিছুতেই ভালো হচ্ছে না। পরামর্শ নিতে গেল আইরিনের কাছে। আইরিন একজন জাজ। ২৫ বছর আগে নির্মমভাবে খুন হয়েছিল লিলিয়ানা নামের একটি মেয়ে। একজন ফেডারেল এজেন্ট হিসেবে সেই খুনের তদন্ত করেছিল বেনজামিন, আর তখন তার ঊর্ধ্বতন পদে ছিল আইরিন। খুনি ধরাও পড়েছিল। ঘটনা আসলে সেখান থেকেই শুরু। ভয়ে পালিয়ে যেতে হয়েছিল বেনজামিনকে। ২৫ বছর পর সেই ঘটনা নিয়েই লেখা হবে উপন্যাস। নতুন করে খুঁজতে শুরু করল বেনজামিন। শেষটায় কিন্তু বিশাল চমক।

যাঁরা সত্তরের দশকের লাতিন আমেরিকার রাজনীতির খোঁজখবর রাখেন এবং আশির দশকের সামরিক শাসনের ইতিহাস জানেন, তাঁদের বিশেষ ভালো লাগবে এই সিনেমা। অসাধারণ এই সিনেমা ২০০৯ সালে বিদেশি ভাষার সেরা সিনেমার অস্কার পায়।এবার একটি সতর্কবার্তা। সিনেমাটা এতই ভালো যে এর একটা হলিউড ভার্সন তৈরি করা হয়েছিল ২০১৫ সালে। জুলিয়া রবার্টস ও নিকোল কিডম্যান থাকলেও আমার পরামর্শ হলো সময় নষ্ট না করাই ভালো। যেমন দেখবেন না কোরিয়ার বিখ্যাত থ্রিলার ‘ওল্ড বয়’ ও বেলজিয়ামের আরেক বিখ্যাত থ্রিলার ‘লফট’-এর হলিউড ভার্সন। বরং এখনো না দেখলে মূল সিনেমাগুলোই দেখে নিতে পারেন।

বহু বিখ্যাত ড্যানিশ থ্রিলারের মধ্যে ‘পুশার’-এর তিনটি পর্বই দেখে নিতে পারেন। তবে আমার বেশি পছন্দ ‘দ্য কিপার অব লস্ট কজেস’। কার্ল একজন পুলিশ কর্মকর্তা। তারই ভুলে এক অভিযানে নিহত হয় এক সহকর্মী আর চিরতরে পঙ্গু হয়ে যায় তারই সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ বন্ধু। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে কার্লকে পাঠিয়ে দেওয়া হয় নতুন এক বিভাগে। সমাধান হয়নি এমন সব কেস নথিভুক্ত করার কাজ। সঙ্গে দেওয়া হলো একজনকে, আসাদ। উঠতি রাজনীতিবিদ অল্পবয়সী এক মেয়ে আত্মহত্যা করেছে পাঁচ বছর আগে। সন্দেহ হলো কার্লের। নেমে পড়ল তদন্তে। কিন্তু কেউ সহযোগিতা করছে না। দমল না কার্ল। এতই জমজমাট থ্রিলার যে এর আরও দুটি পর্ব আছে। এই সুযোগে তা–ও দেখে নিতে পারেন। যেমন ‘দ্য অ্যাবসেন্ট ওয়ান’ এবং ‘আ কন্সপিরেসি অব ফেইথ’।

থ্রিলার ভক্তদের মধ্যে খুবই আছেন যাঁরা মাইকেল ডগলাস ও শ্যারন স্টোনের বেসিক ইনস্টিংক্ট দেখেননি। এর পরিচালক কিন্তু একজন ডাচ, পল ভারহোভেন। ‘এলে’ তাঁর বানানো আরেক থ্রিলার। এর ভাষা ফ্রেঞ্চ। সাইকোলজিক্যাল এই থ্রিলারের মূল চরিত্র মিশেল, একাই থাকে। এক ভিডিও গেম কোম্পানির মালিক। একজন ছেলে আছে, কিন্তু তেমন কোনো কাজ করে না। বান্ধবীকে নিয়ে থাকে, মিশেলই সব খরচ দেয়। একদিন মুখোশ পরে এক আগন্তুক ধর্ষণ করল মিশেলকে। পুলিশকে কিছু জানাল না মিশেল, বরং নিজেই খুঁজতে লাগল। সন্দেহের তালিকায় বেশ কয়েকজন। আর অপরাধীকে খুঁজতে গিয়ে মিশেল নিজেই জড়িয়ে গেল অদ্ভুত এক সম্পর্কে। ইসাবেলা হুপার্টের অভিনয়ের জন্যই তো দেখা যায়।

সবশেষ সতর্কতা। ‘বেসিক ইনস্টিংক্ট’-এর কথা বলেছিলাম। এর একটা দ্বিতীয় পর্ব আছে। পরিচালক ভিন্ন, তবে শ্যারন স্টোন আছেন। শ্যারন স্টোন থাকলেও যে সময় নষ্ট হয়, ‘বেসিক ইন্সটিংক্ট টু’ এর বড় উদাহরণ।

রেটিং
[Total: 3   Average: 3.7/5]

  • 3
  • 3
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    6
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.