বিচিত্রার প্রচ্ছদ কাহিনী ১৯৭৮ : সিরাজ সিকদার হত্যার নেপথ্য কাহিনী

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

Reading Time: 10 minutes

(সিরাজ সিকদারের মৃত্যু নিয়ে এই লেখাটি ছিল বিচিত্রার প্রচ্ছদ কাহিনী। সম্ভবত এটাই এ বিষয়ে প্রথম অনুসন্ধানী রিপোর্ট। এর অনেক কিছুই এখন পাঠকদের জানা। কিন্তু ১৯৭৮ সালের জন্য অনেককিছুই ছিল নতুন। গুরুত্ব বিবেচনায় পুরো রিপোর্টটিই তুলে দেওয়ার লোভ সামলানো গেল না।)

বার বার ঘুরে ফিরে

মনে পড়ে তোমাদের কথা

এক সাথে বা একা।

সাভারের লাল মাটি

ছোট ছোট টিলা

শাল-কাঠালের বন এখানে দাঁড়িয়েছিল ।

কিন্তু কালো মেঘে

ঢেকে গেল আকাশ।

সাভারের লাল মাটি

আরো লাল হলো –

তোমাদের পবিত্র রক্তে।

(সাভারের লাল মাটি – সিরাজ সিকদার, গণযুদ্ধের পটভূমি “৭৩ কবিতাগ্রন্থ থেকে উদ্ধৃত, পৃ: ২৩)

৩রা জানুয়ারী ১৯৭৫। প্রতিটি দৈনিক পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় সংবাদ শিরোনাম: সিরাজ সিকদার গ্রেফতার: পালাতে গিয়ে নিহত। ২রা জানুয়ারী গভীর রাতে প্রদত্ত পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বলা হলো ‘পূর্ব বাংলার সর্বহারা পার্টি’ নামে পরিচিত আত্মগোপনকারী চরমপন্থী দলের নেতা সিরাজুল হক সিকদার ওরফে সিরাজ সিকদারকে পুলিশ গত ১লা জানুয়ারী চট্টগ্রামে গ্রেফতার করে। সেই দিনই তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়া হয়।

জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি স্বীকারোক্তিমূলক বিবৃতি দেন এবং তার দলীয় কর্মীদের কিছু গোপন আস্তানা এবং তাদের বেইনী আন্ত্রশস্ত্র ও গোলাবারুদ দেখিয়ে দেওয়ার জন্য পুলিশের সঙ্গে যেতে সম্মত হন। তদনুযায়ী গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে একদল পুলিশ যখন তাকে পুলিশ ভ্যানে করে গোপন আন্তানার দিকে নিয়ে যাচ্ছিল তখন তিনি সাভারের কাছে পুলিশের ভ্যান থেকে লাফিয়ে পড়েন এবং পালিয়ে যেতে চেষ্টা করেন। পুলিশ তার পালায়ন রোধের জন্য গুলীবর্ষণ করে। ফলে সিরাজ সিকদারের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়। এ ব্যাপারে সাভার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এখানে উল্লেখ করা যেতে পারে যে, সিরাজ সিকদার তার গোপন দলে একদল ডাকাতের সমাবেশ ঘটিয়েছিলেন। এদের দ্বারাই তিনি গুপ্তহত্যা, থানা, বনবিভাগ দপ্তর, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ ইত্যাদির উপর হামলা, ব্যাংক লুট, হাট বাজার, লঞ্চ, টেন ডাকাতি রেল লাইন উপড়ে ফেলে গুরুতর ট্রেন দুর্ঘটনা সংঘটন এবং জন সাধারণের কাছ থেকে জবরদস্তি টাকা আদায় – এই ধরনের উচ্ছৃঙ্খল অপরাধের মাধ্যমে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলাকে বিঘ্নিত করেছিলেন।

পরবর্তী ঘটনার সরকারী ভাষ্যও মোটামুটি সকলের জানা। ৪ঠা জানুয়ারীর সংবাদপত্রে বলা হয়, আত্মীয় পরিজন পরিবেষ্টিত অবস্থায় গতরাত প্রায় ৮টার সময় উগ্রপন্থী গুপ্তদলের নেতা সিরাজ সিকদারকে মোহাম্মদপুর ঈদগাহ মাঠ সংলগ্ন গোরস্তানে দাফন করা হয়েছে। তার বাবা জনাব আবদুর রাজ্জাক সিকদার তার কবরের জন্য ওই সংরক্ষিত গোরস্তানে জমি কিনেছেন এবং তার অনুরোধে পুলিশ প্রহরায় তারই খরচে দাফনকার্য সম্পন্ন করা হয়। ঢাকার পুলিশ সুপার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ খবর দেন। ময়না তদন্তের স্থলে পুলিশ মৌখিকভাবে জানায় যে ২রা জানুয়ারী দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে নিহত সিরাজ সিকদারের লাশ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজের মর্গে আনা হয়।

সন্দেহের সূত্রপাত এবং বিচিত্রার তদন্ত

পুলিশের উপরিউক্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বাইরে এর চেয়ে বেশি কিছু জানার উপায় ছিল না জনগণের। কিন্তু জনমনে সন্দেহ থেকে যায়। ১৯৭৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৯৭৫ সালের ২৫শে জানুয়ারী পর্যন্ত সময়ে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন ঘটনা এই সন্দেহের কারণ।

১৯৭৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতীয় সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য এবং এ তারিখকে ‘কালো দিবস’ আখ্যায়িত করে পুর্ব বাংলার সর্বহারা পাটি দেশব্যাপী হরতাল পালনের যে আহবান জানায়, তাতে নয়টি জেলায় পূর্ণ হরতাল পালিত হয়। সে হরতালের প্রতিক্রিয়া ঢাকাতেও লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

এর কিছুদিন পরেই ভূটানের রাজার বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় সফরের সময় ২৮ ডিসেম্বর সংবিধানের ১০১(ক) ধারার ১ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সারা বাংলাদেশে জরুরী। অবস্থা ঘোষণা করেন। ঘোষণায় বলা হয়, ‘একদল লোক, যারা মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল এবং এক সার্বভৌম স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় প্রতিহত করতে যথাসাধ্য প্রয়াস পেয়েছিল, তারা তখন থেকেই বিভিন্ন রাষ্ট্রবিরোধী তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছে এবং নিয়মতান্ত্রিক উপায়ে যারা ক্ষমতা দখলে ব্যর্থ হয়েছিল তারাও এদের সাথে যোগ দিয়েছে। নিজেদের জাতিবিরোধী।অপরাধের জন্য কুখ্যাত পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কিছু দালাল, চরমপন্থী লোকজন এবং এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার জন্য বিদেশী শক্তির অর্থপুষ্ট শত্রু এজেন্টরা – এরা সবাই এখন এমন সব কার্যকলাপে নিয়োজিত যা স্বাভাবিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সুষ্ঠু অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রানের ব্যাপারে এক অসম্ভব অবস্থা তৈরি করেছে।

পরবর্তী পর্যায়ে ১লা জানুয়ারী চট্টগ্রামে গ্রেফতার হন সিরাজ সিকদার এবং ২৫শে জানুয়ারী। ১৯৭৫ দুপুর ১ ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণের পর শেখ মুজিব সংসদে ভাষণ দিতে গিয়ে বলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ সিকদার?’ আজ জনমনে প্রশ্ন জেগেছে এই মৃত্যু সম্পর্কে। জনসভায় বলা হচ্ছে এটা মৃত্যু নয়, হত্যাকাণ্ড। সে সময়ের সরকারী দলের নেতারা শুধু উপরোক্ত প্রেস রিলিজের কথাই উল্লেখ করেছেন।

তদন্ত রিপোর্ট

সিরাজ সিকদার কিভাবে গ্রেফতার হন এবং পুলিশী নিরাপত্তায় কিভাবে তার মৃত্যু ঘটে, তার সঠিক ভাষ্য এখনো জানা যায় নি।কিন্তু বিভিন্ন সূত্রে আমরা যেসব তথ্য সংগ্রহ করেছি তাকে নির্ভরযোগ্য মনে করেই আমরা তা প্রকাশ করছি।

১৯৭৫ সালের ১লা জানুয়ারী দলের নেতৃস্থানীয় কর্মীদের বৈঠকে যোগ দেওয়ার জন্য চট্টগ্রাম গিয়েছিলেন সিরাজ সিকদার। এর আগেই তিনি সংবাদ পেয়েছিলেন তাকে গ্রেফতার করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হয়েছে।

ডিসেম্বরের (১৯৭৪) প্রথম থেকেই তার দলের উপর ব্যাপক বিপর্যয় নেমে আসে। হরতাল আহবানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে গ্রেফতার হয়ে যায় বহু কর্মী। অপরদিকে, ১৯৭২ সালে দল পরিচালনার জন্য ছয় সদস্য বিশিষ্ট যে কেন্দ্রীয় কমিটি গঠিত হয়, ১৯৭৪ সালের আগস্ট মাসে তার অবস্থা দাঁড়ায় ২ সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটি। সেপ্টেম্বর মাসে আর একজন সদস্য ব্যক্তিগত ব্যর্থতার কারণে কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে অপসারিত হলে, অবশিষ্ট থাকেন শুধু সিরাজ সিকদার।

সিরাজ সিকদারের রাজনৈতিক জীবনের সূত্রপাত ছাত্রাবস্থায়। ১৯৬৭ পর্যন্ত তিনি জড়িত ছিলেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন (মেনন গ্রুপ) এর সঙ্গে, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি হিসেবে। ১৯৬৮ সালের ৮ই জানুয়ারী কয়েকজন সম মতালম্বীকে নিয়ে সিরাজ সিকদার গঠন করেন ‘পূর্ব বাংলার শ্রমিক আন্দোলন’ নামে একটি ‘প্রস্তুতি’ সংগঠন। এই আন্দোলনকেই তিনি পার্টিতে রূপান্তরিত করেন ১৯৭১ এর ৩ জন, বরিশাল জেলার পেয়ারা বাগানে। ১৯৭২ এর ১৪ জানুয়ারী এ পার্টির প্রথম কংগ্রেস অনুষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩–৭৪ সালে সাংগঠনিকভাবে এর বিকাশ ঘটে। বিভিন্ন সময়ে কিছু ব্যক্তির এই সংগঠনে যোগদান (লে: কর্নেল জিয়া উদ্দীন (অব:) প্রমূখ) এবং সর্বশেষে ১৯৭৪ সালের ডিসেম্বরের হরতালের প্রতি মওলানা ভাসানীর সমর্থন সিরাজ সিকদারের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে শক্তি জোগায়।

১৯৭৪ সালে দলের ব্যাপক বিকাশের সময় তার দলে বহু অবাঞ্ছিত অনুপ্রবেশ ঘটে যা। পরবর্তীতে তার গ্রেফতারের কারণ।

শ্রেফতারের সম্ভাবনা আঁচ করতে পেরে এবং বিভিন্ন সূত্রে সে সংবাদ পেয়ে সিরাজ সিকদার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, ১৯৭৫ এর ১৫ জানুয়ারি আরো গোপন অবস্থানে সরে যাবেন। তার দলের অভিযোগ, ১৯৭৪ সালেই জনৈক উর্ধতন পুলিশ কর্মকর্তার ভাগনে এই দলের সদস্যপদ লাভ করে। তার মাধ্যমে সিরাজ সিকদারকে পাঠানো সবগুলো সতর্কীকরণ চিঠিই পুলিশের হাতে পৌছে যায়। এ ভাবেই পুলিশ জানতে পারে, তার চট্টগ্রাম বৈঠকের (১লা জানুয়ারী) কথা।

চট্টগ্রাম (হালিশহর) বৈঠকে আমন্ত্রিত সবাই উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষ হওয়ার আগে, নিয়মভঙ্গ করে একজন সদস্য বাইরে চলে যায়, ঘুরে আসার কথা বলে। কিন্তু সে আর ফিরে আসে নি। নিরাপত্তার কারণে সে বৈঠকে নির্ধারিত হয়েছিল, সকলের আগে ‘কুরিয়ার’ সহ বেরিয়ে যাবেন সিরাজ সিকদার। সেই মোতাবেক মহসিনকে সঙ্গে করে বেরিয়ে পড়েন সিরাজ সিকদার।

কিছুদূর গিয়ে তারা একটি বেবীট্যাক্সী ভাড়া করেন। এ সময় তার পরনে ছিল ঘিয়া রংয়ের প্যান্ট, টেট্রনের সাদা ফুলশার্ট, চশমা এবং হাতে একটি ব্রীফ কেস। হালিশহরে বৈঠক শেষে যখন তারা বেবীট্যাক্সীতে উঠেছেন ঠিক সেসময় একজন অপরিচিত ব্যক্তি তাদের কাছে লিফট চায়। সিরাজ সিকদার জানতে চান –

– আপনি কোথায় যাবেন?

–আমি সামনে গিয়ে নেমে যাব।

–অন্য ট্যাক্সী দেখুন না।

– আপনারা যদি আমাকে নিয়ে যান, তাহলে খুবই উপকার হয়। (অনুনয়ের সঙ্গে)

এর পরই সে ট্যাক্সীতে চড়ে বসে।

পুলিশ পূর্বের সংবাদ অনুযায়ী চট্টগ্রাম শহর থেকে হালিশহর পর্যন্ত পুরো রাস্তার উপর কড়া নজর রেখেছিল। বেবীট্যাক্সী যখন নিউ মার্কেটের (বিপনী বিতান) কাছে আসে তখনই সেই অনাহুত সহযাত্রী ট্যাক্সী থামাতে বলেন। এ পর্যায়ে কথা কাটাকাটি শুরু হয়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে সেই আগুন্তক লাফ দিয়ে বেবীট্যাক্সীর সামনে গিয়ে পিস্তল উচিয়ে ড্রাইভারকে থামাতে বলে। ভয়ে ড্রাইভার রোধ করে গতি। আর সঙ্গে সঙ্গে চার পাশ থেকে স্টেনগান হাতে সাদাপোশাকের পুলিশ ঘেরাও করে ফেলে বেবীট্যাক্সী ।

ঘটনার আকস্মিকতায় জমে যায় লোকজন। একজন ভদ্রলোকের এই পরিণতির কারণ জানতে চাইলে জবাব দেওয়া হয় – ‘সে একজন পলাতক কালোবাজারী। তাই তাকে এভাবেই গ্রেফতার করা হচ্ছে। বেবীট্যাক্সী আটক করার পরই, ছয়জন স্টেনগানধারীর একজন সিরাজ সিকদারের হাতে হাতকড়া পরিয়ে দেয় এবং চোখ বেধে ফেলে। সঙ্গী মহসিনেরও ঘটে একই পরিণতি।

গ্রেফতারের পর সিরাজ সিকদারকে নিয়ে যাওয়া হয় ডাবল মুরিং থানায়। এই থানা থেকেই খবর পাঠানো হয় সর্বত্র এবং জরুরী ভিত্তিতে সেদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম ঢাকা বিমানে বন্দীদের জন্য আসন সংগ্রহ করা হয়।

৬-৪৫ মি: যে বিমানে তাদের ঢাকা নিয়ে আসা হয় সে বিমানটি যাত্রী নিয়ে আসছিল কক্সবাজার থেকে। চট্টগ্রাম পৌঁছার পর নিয়মভঙ্গ করে ঢাকা গামী যাত্রীদের নেমে যেতে বলা হয়।

যাত্রীরা নেমে গেলে একটি বিশেষ গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয় বন্দীদের। ককপিটের পরেই, সামনের চারটি আসন সংরক্ষিত করা হয় তাদের জন্য। কিন্তু বিমান ছাড়ার সময় দেখা দেয় বিপত্তি। বিমানের পাইলট বন্দী অবস্থায় কোন যাত্রীকে বহন করতে অস্বীকার করেন। কিছুটা বাকবিতন্ডারর পর ঢাকার উদ্দেশে পাড়ি জমায় বাংলাদেশ বিমানের সেই ফকার বিমানটি।

ঢাকা পৌঁছানোর পর পরই, তড়িঘড়ি করে নামিয়ে দেওয়া হয় যাত্রীদের। তারপর বিমানটিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয় হ্যাঙ্গারের কাছে। আগে থেকেই পেছনের গেট দিয়ে আসা পুলিশের গাড়ি অপেক্ষা করছিল সেখানে।

বিমান থেকে অবতরণের সময় আকস্মিকভাবে পুলিশের জনৈক ইন্সপেক্টর দৌড়ে এসে বুকে লাথি মেরে চীৎকার করে ওঠে ‘হারামজাদা তোর বিপ্লব কোথায় গেল?’ এ পর্যায়ে উপস্থিত পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তারা হস্তক্ষেপ করে নতুন আক্রমণের হাত থেকে সিরাজ সিকদারকে রক্ষা করে। এবং মন্তব্য করে – ‘এত অস্থির হচ্ছ কেন কা….. ঘরে নিয়েই আমরা দেখে নেব।’

বিমান থেকে সিরাজ সিকদারকে সোজা নিয়ে যাওয়া হয় স্পেশাল ব্রাঞ্চ অফিসে। সেখানে পাগলা ঘন্টি বাজিয়ে সতর্ক করে দেওয়া হয় সবাইকে। সর্বত্র একটা সাড়া পড়ে যায়। স্পেশাল ব্রাঞ্চের অফিস ঘিরে ফেলে কয়েকশ পুলিশ। এ বক্তব্য সে সময়ে আটক এক রাজনৈতিক কর্মীর।

সিরাজ সিকদারকে যখন গাড়িতে করে নিয়ে আসা হয় তখন সামনে পিছনে ছিল কড়া প্রহরা। জানা যায় সাইরেন বাজিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয় রাস্তার লোকজন। পেশাল ব্রাঞ্চ অফিসে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় ‘কমিউনিষ্ট টাস্ক ফোর্স’ এবং রক্ষীবাহিনীর উপর।

স্পেশাল ব্রাঞ্চে নিয়ে আসার পর কর্তাব্যক্তিদের ভিড় বেড়ে যায় সেখানে। সবাই এই মূল্যবান বন্দীকে একনজর দেখতে চায়। কিন্তু নিরাপত্তার কারণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি সেক্রেটারি বা পুলিশের সুপারিনটেন্ডেন্টের পদমর্যাদার নীচে কাউকে দেখার অনুমতি দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন পুলিশের নিম্নপর্যায়ের কর্মীরা।

গ্রেফতার সত্ত্বেও পুলিশের লোকজনও প্রাথমিক পর্যায়ে তার পরিচিতি সম্পর্কে নি:সন্দেহ হতে পারেনি। তাই স্পেশাল ব্রাঞ্চে আটক তার দলীয় কয়েকজন কর্মীকেও জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

প্রথমিক হেফাজতেই তার উপর চালানো হয় অত্যাচার। অত্যাচারে কথা বের করতে ব্যর্থ হলে শুরু হয় কথোপকথন:

০ আপনি কি জানেন আপনার শেষ পরিণতি কি?

০ আমি জানি, একজন দেশপ্রেমিকের পরিণতি কি হতে পারে তা ভালোভাবেই আমার জানা আছে।

O আমরা আপনাকে শেখ সাহেবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলব।

০ জাতীয় বিশ্বাসঘাতকের কাছে একজন দেশপ্রেমিক ক্ষমা চাইতে পারে না।

O তাহলে আপনাকে মৃত্যুবরণ করতে হবে।

০ সে মৃত্যুকেই আমি গ্রহণ করব, সে মৃত্যু দেশের জন্য মৃত্যু, গৌরবের মৃত্যু। (কথোপকথন রেকর্ডকৃত ভাষ্য নয়। কিন্তু নির্ভরযোগ্য মহল যা জানিয়েছেন তার মর্মার্থ এই)।

এ পর্যায়ে টেলিফোনে নির্দেশ আসে উপস্থিত পুলিশের জনৈক উর্ধতন কর্তার কাছে। সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয়ে যায় পাততাড়ি গুটানোর পালা। কোথায় যেতে হবে কেউ জানেন না। জানেন শুধু কয়েকজন। রাত দশটার দিকে চলতে থাকে এক সাঁজোয়া বাহিনী। এবারের গন্তব্যস্থল গণভবন। সেখানে অধীর আগ্রহে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ অপেক্ষা করছেন বেশ কিছু লোক।

রাত সাড়ে দশটায় পেছনে হাত বাধা অবস্থায় সিরাজ সিকদারকে হাজির করা হয় শেখ মুজিবের সামনে। তাকে দাঁড় করিয়ে রেখেই প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিব তখন আলাপে ব্যস্ত ছিলেন তার প্রাইভেট সেক্রেটারীর সঙ্গে। এ সময় সিরাজ সিকদার প্রশ্ন করেন- রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কাউকে বসতে বলার সৌজন্যবোধ কি আপনার নেই?

সঙ্গে সঙ্গে পেছনে থেকে একজন পুলিশ সুপার এগিয়ে এসে পিস্তলের বাট দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। গণভবনে কথা কাটাকাটির পর তাকে নিয়ে যেতে বলেন শেখ মুজিব। রাত তখন বারোটা।

মধ্যরাতেই সোরগোল বেধে যায় শেরে বাংলা নগরের তৎকালীন রক্ষীবাহিনী হেডকোয়ার্টারে। তাড়াহুড়া করে সেখানে আটক অন্যান্য বন্দীদের নিয়ে যাওয়া হয় অন্যত্র। সমগ্র এলাকা আলোকিত করে জ্বালিয়ে দেওয়া হয় সার্চ লাইট । পুরো এলাকা কর্ডন করে ফেলে রক্ষীবাহিনী। সকলের মুখে গুঞ্জন, ফিসফিসানি। তখনও কেউ জানে না, কাকে নিয়ে আসা হচ্ছে? রাত সোয়া বারোটায় তৎকালীন রক্ষীবাহিনী প্রধান অপারেশন প্রধান সহ হেডকোয়ার্টারে আসেন। এসেই ব্যাটেলিয়ন কোয়ার্টার গার্ড থেকে সিরাজ সিকদারের দলের দুজন নেতৃস্থানীয় কর্মীকে হেড কোয়ার্টার গার্ডে সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেন।

রাত সাড়ে বারোটায় মহসিন সহ সিরাজ সিকদারকে নিয়ে আসা হয় রক্ষীবাহিনী হেডকোয়ার্টারে। তার পরই একজনকে আরেক জনের কাছ থেকে আলাদা করে নেওয়া হয়। রক্ষীবাহিনীর হেডকোয়ার্টারে নিরাপত্তার দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের বিশেষ টিম ও রক্ষীবাহিনীর ১১ ব্যাটালিয়নের এস, পি কোম্পানীর উপর। পরবর্তী প্রহরগুলোয় তেমন উল্লেখ্য কোন ঘটনা ঘটে নি। ২ জানুয়ারী ভোর পর্যন্ত অভুক্ত অবস্থায় তাকে আটক রাখা হয় রক্ষীবাহিনী হেডকোয়ার্টারে ।

ব্যক্তিগত জীবন ও কিছু প্রশ্ন

আট ভাই বোনের মধ্যে দ্বিতীয় ছিলেন সিরাজ সিকদার। বড় ভাই বাদলা আলম ছিলেন গাইবান্ধার মহকুমা ইঞ্জিনিয়ার। ১৯৭১ সালের ২৪ এপ্রিল পাকিস্তানী বাহিনী তাকে হত্যা করে। মৃত্যুকালে সিরাজ সিকদারের বয়স হয়েছিল ৩২। ছোটবেলায় লেখাপড়া করেন বরিশালে।

বরিশাল জেলা স্কুল থেকে ম্যাট্রিক ও ব্রজমোহন কলেজ থেকে আই এস সি পাশ করেন। এ সময় তিনি কলেজ সংসদের কর্মকর্তাও নির্বাচিত হন।

প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তিনি প্রথম শ্রেণীতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন ১৯৬৭ সালে। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে (পলিটেকনিক্যাল টিচার্স ট্রেনিং ইন্সটিটিউট, সি এন্ড বি, দি ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেড) চাকুরী করেন এবং চুড়ান্তভাবে চাকুরী ত্যাগ করেন ১৯৬৯ সালে। প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রাবস্থায় তিনি বিয়ে করেন রওশন আরাকে, ১৯৬৬ সালে। এ স্ত্রীর গর্ভে তার সন্তান সংখ্যা ২- শিখা ও শুভ্র। সিরাজ সিকদারের ছোট বোন শামীম সিকদার ভাস্কর্য শিল্পী। শামীমের ছোট নুরুল হক সিকদার লাহোর থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেছেন। ছোট ভাই নাজমুল হক সিকদার ডাক্তার। সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেছেন। এদের ছোট তিন ভাই বোন জাহান আরা, মঞ্জুরুল হক সিকদার ও শহীদুল হক সিকদার। রওশন আরার রাজনৈতিক দুর্বলতার কারণেই ১৯৬৯ সালে তার সঙ্গে বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে সিরাজ সিকদারের। সে বছরের শেষ দিকে সিরাজ সিকদার বিয়ে করেন জাহানারা হাকিমকে। ‘সমকাল’ এর লেখিকা জাহানারা প্রচুর লিখতেন। তার প্রকাশিত গল্পগ্রন্থের নাম ‘ঝুমুর মহল’। পূর্ব বাংলা সর্বহারা পার্টির মতে সর্বহারা শ্রেণীর নেতৃত্বে জনগণের মুক্তি সংগ্রামে অংশগ্রহণ করার জন্য তিনি পূর্ব জীবন ও প্রতিষ্ঠা ত্যাগ করে বিপ্লবী জীবনে চলে আসেন।

পূর্ব জীবন ত্যাগ করার পর জাহান আরা সিরাজ সিকদারের দলের সদস্যপদ লাভ করেন এবং নেতৃস্থানীয় কর্মী হয়ে ওঠেন। সিরাজ সিকদারের কবিতাগ্রন্থের মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি লিখেছেন: কমরেড সিরাজ সিকদার মূলত সমাজ সচেতন বিপ্লবী মার্কসবাদী কবি হলেও তার ব্রচনায় পূর্ব বাংলার রূপময় প্রকৃতি অত্যন্ত সজীব ও বাঙময়। দৃঢ় বিপ্লবী চেতনার সঙ্গে কবির সৌন্দর্য সচেতন মানসিকতার স্পর্শ ও গ্রন্থের সর্বত্র সুস্পষ্ট।

সিরাজ সিকদার আপন সিদ্ধান্তে জাহান আরাকে বিয়ে করলেও সহকর্মীদের কাছ থেকে সমর্থন পান নি। অথচ বিয়ের পরেই সিরাজ সিকদার জানতে পারেন বেগম জাহান আরা মানসিকভাবে অসুস্থ। শারীরিক অসুস্থতা এবং অন্যান্য কারণে ১৯৭২ সালের কংগ্রেসে নির্বাচিত হলেও জাহান আরা কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হতে পারেন নি। ১৯৭৪ সালের প্রথম দিকে সিরাজ সিকদারের সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। এসময় একবার তিনি সিরাজ সিকদারকেও খুন করতে উদ্যত হয়েছিলেন। তথাপি ১৯৭৪ এর শেষ পর্যন্ত তিনি পার্টির হেফাজতেই ছিলেন সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করে।

সিরাজ সিকদারের গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে তিনি ঢাকায় পুলিশের জনৈক উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে আত্মসমর্পণ করেন এবং তাদের নিয়ন্ত্রণে সিদ্ধেশ্বরীতে এক বাড়িতে দীর্ঘদিন অবস্থান করেন। কিন্তু কেন?

সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর পর পরই তার দলে ভাঙ্গন দেখা দেয়। নেতৃত্বের প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত হয়ে যায় সংগঠন। কেননা তার গ্রেফতারের সঙ্গে সঙ্গে এক সদস্য বিশিষ্ট কেন্দ্রীয় কমিটির অবসান ঘটে। নেতৃত্বের দায়িত্ব অর্পিত হয় দুটি সাহায্যকারী গ্রুপ, সাংগঠনিক সাহায্যকারী ও প্রধান সময়কারীর উপর। এরা যখন ১০ জানুয়ারী ১৯৭৫ বৈঠকে মিলিত হয়, তখন দেখা দেয় অবিশ্বাস। কেননা দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের ১ নং, ২ নং ও ৩ নং সমস্যাই ছিল সঠিক নেতৃত্ব।

শেষ নাটক

২রা জানুয়ারী ১৯৭৫ সকালে সিরাজ সিকদারকে কড়া প্রহরাধীনে নিয়ে যাওয়া হয় সাভারে। চারটি ভজ গাড়ি ও একটি টয়োটা গাড়ি অনুসরণ করে তাকে। সাভারে তাকে দেওয়া হয় তৎকালীন রক্ষী বাহিনী ক্যাম্পে। সন্ধ্যার পর পুলিশের কয়েকজন উর্ধতন কর্মকর্তা উপস্থিত হন সেখানে। রাত নয়টার দিকে তাকে নিয়ে আসা হয় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরেকটু এদিকে। সেখানে হাত বেঁধে রাস্তার উপর দাঁড় করিয়ে গুলি করা হয় বলে অনুমান করা হয়।

পার্শ্ববর্তী এলাকার যারা গুলীর শব্দ শুনেছেন, তারা কেউ ভয়ে বের হন নি। ভেবেছেন সে সময়ের নিত্যদিনের মতই একটি ঘটনা। পরদিন অনেকেই রাস্তার উপর দেখেছেন জমাট বাধা রক্তের দাগ।

মৃত্যুর পর তার লাশ নিয়ে আসা হয় স্পেশাল ব্রাঞ্চে। সেখান থেকে নেওয়া হয় কন্ট্রোল রুমে। তারপর পাঠানো হয় মর্গে।

৩রা জানুয়ারী বেলা প্রায় সোয়া একটায় হাসপাতাল মর্গ থেকে দাফনের জন্য তার লাশ নিয়ে যাওয়া হয় আজিমপুরে। কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা করেছিলেন সাধারণ কবরে দাফন করতে। এতে তার পিতা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। পিতা আবদুর রাজ্জাক সিকদার হুমকি দিয়ে বলেন ‘কবরের জন্য জায়গা কিনতে না পারলে, আমি অস্বীকার করব এ আমার ছেলের লাশ নয়। বাধ্য হয়ে কর্তৃপক্ষ নতি স্বীকার করতে হয়। নির্ধারিত হয় মোহাম্মদপুর কবরস্থানে কবর হবে, কিন্তু পুলিশ প্রহরা থাকবে এক মাস।

সিরাজ সিকদারের মৃত্যুর পর অধুনালুপ্ত বাংলার বাণী উপ সম্পাদকীয় কলামে ৫ জানুয়ারী ‘৭৫ মন্তব্য করে ‘বিপ্লব করিবার জন্য চারু মজুমদারকে যে কল্পনা বিলাসে পাইয়া বসিয়াছিল। তাহার পরিণতি সকলের জানা থাকিবার কথা। সিরাজ সিকদারের পরিণতি তাহার চাইতে ভিন্নতর কিছুই হয় নাই। ….. . সিরাজ সিকদার ধৃত হইয়া মৃত্যুবরণ করিবার পর আশা করা যায় যাহারা এই দেশে সন্ত্রাসবাদী তৎপরতাকে রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে গ্রহণ করিয়াছিলেন তারাহা অত:পর নিজেদের ভুল ধরিতে পারিয়াছেন। আর সিরাজ সিকদারের পার্টি বিদায় বেলা/ মনে রেখো মনে রেখো একটি কথা/ কত ঘাত প্রতিঘাত সংঘাত প্রতিকুলতা/ কিন্তু আমাদের আছে একটি কামনা/ সে হলো নি:স্বার্থ জনসেবা।

আজকের প্রেক্ষিতে

জিন্ন রাজনৈতিক মতালম্বীর এমনি মৃত্যু দেশে বা বিদেশে নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু ঘটলে তা নিয়ে দেখা দেয় প্রশ্ন। তাই প্রশ্ন উঠেছিল চারু মজুমদারের মৃত্যুকে নিয়ে, চে গুয়েভারার মৃত্যুকে নিয়ে, হাসান নাসিরের মৃত্যুকে নিয়ে।

আর এই ১৯৭৮ সালে চে গুয়েভারার মৃত্যু সম্পর্কে স্বীকারোক্তি করতে হয়েছে বলিভিয়ার প্রাক্তন সরকার প্রধানকে। বাংলাদেশের নির্বাচনে অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় সিরাজ সিকদারের মৃত্যু। প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতাকে সাংবাদিক সম্মেলনে জবাব দিতে হয় এ প্রশ্নের, জনসভায় ব্যাখ্যা করতে হয় পরিস্থিতি। এ প্রশ্নে প্রেসিডেন্ট জিয়াও বলেছেন আইন তার নিজস্ব পথ বেছে নেবে।

সিরাজ সিকদারের পিতা দাবী করেছেন তদন্ত। জনগণ দাবী করেছেন তদন্ত। এখন প্রশ্ন – কখন এ ঘটনা সম্পর্কে প্রকাশিত হবে শ্বেতপত্র।

বিচিত্রা, ৭ বর্ষ, ১ সংখ্যা, ১৯ মে ১৯৭৮

সূত্র: স্বাধীনতার প্রথম দশকে বাংলাদেশ–মাহফুজ উল্লাহ

 

রেটিং

  • 13
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
    13
    Shares

Leave a Reply

Your email address will not be published.