বাংলা ভাষার অর্থনীতির যে বইগুলো পড়তে পারেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Reading Time: 5 minutes

 

অর্থনীতি নিয়ে অনেকেরই আগ্রহ আছে। যারা ব্যবসা করেন বা করবেন ভাবছেন, শিক্ষার্থী অথবা সামনের দিনে অর্থনীতি পড়বেন বলে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, কিংবা উদ্যোক্তা-তারা বেছে নিতে পারেন অর্থনীতি নিয়ে লেখা ভালো ভালো এবং কাজের বেশ কিছু বই।
হাতের কাছে ইন্টারনেট আর গুগল থাকলে এক ক্লিকে জেনে পারবেন অনেক অনেক বইয়ের নাম। বিল গেটস ব্যবসা-বাণিজ্য নিয়ে কোন আটটি বই পড়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তাও জেনে যাবেন নিমেষে। বিজনেস ইনসাইডারে ঢুকলে পাবেন এ যাবৎ লেখা সবচেয়ে প্রভাবদায়ক ৩১টি অর্থনীতির বইয়ের একটি তালিকা। আমারটি কেবল বাংলাদেশ থেকে প্রকাশিত বাংলা ভাষায় লেখা বইয়ের তালিকা। আর বিভিন্ন সময়ে দেওয়া বক্তৃতা বা সংবাদপত্রে লেখা কলামের সংকলন এখানে বাদ দেওয়া হয়েছে। আশা করি আগ্রহীরা উপকৃত হবেন।
১.
নিছকই অর্থশাস্ত্র নিয়ে আপনার আগ্রহ। পড়তে চান অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো, চাহিদা-জোগানের সম্পর্ক, বা সামষ্টিক অর্থনীতি নিয়ে প্রাথমিক ধারণা নিতে চান-তাদের জন্য বই হচ্ছে আনু মুহাম্মদের অর্থশাস্ত্র পরিচয়।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক। দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষার আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী তিনি। কিন্তু নিজের আসল কাজটি ঠিকই করে যাচ্ছেন। আগ্রহীদের জন্য সহজ ভাষায় তিনি লিখেছেন বইটি। বইটির প্রকাশক সংহতি।
২.


অর্থনীতির প্রাথমিক ধারণা তো পেলেন। এবার অর্থনীতির অন্য একটি শাখায় যাওয়া যাক। উন্নয়ন অর্থনীতি নিয়ে বাংলায় একমাত্র বইটির কথা বলা যাক। রিজওয়ানুল ইসলাম লিখেছেন ‘উন্নয়নের অর্থনীতি’ নামের বইটি। দীর্ঘদিন তিনি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থায় (আইএলও) কাজ করেছেন। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের তত্ত্বাবধানে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকস থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন। মূলত, উন্নয়ন ভাবনায় বিবর্তন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের বিভিন্ন তত্ত্ব এবং উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন খাতের ভূমিকা নিয়ে গড়ে উঠেছে বলে বইটির ভূমাকায় বলা আছে। মার্কস ও রস্টোর স্তর তত্ত্ব, হ্যারড-ডোমার কিংবা সলো মডেল, বিভিন্ন আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের গড়ে ওঠা-এসব নানা বিষয় রয়েছে বইটিতে। ইউপিএল বইটির প্রকাশক।

৩.


বাংলাদেশের বেকারের সংখ্যা মাত্র ২৭ লাখ। সরকারি পরিসংখ্যানের এই তথ্য বিশ্বাস হচ্ছে না? তাহলে ফাঁকিটা কোথায়? কর্মসংস্থানহীন এই প্রবৃদ্ধির সময়ে এই ফাঁকিটা বুঝতে পারা খুবই জরুরি। আর এ জন্য সঠিক বইটি হচ্ছে ‘উন্নয়ন ভাবনায় কর্মসংস্থান ও শ্রমবাজার’। এই বইটির লেখকও রিজওয়ানুল ইসলাম। আর প্রকাশক ইউপিএল। উন্নয়নের সঙ্গে কর্মসংস্থানের সম্পর্ক বুঝতে হলে বাংলা ভাষায় অন্তত এই বইটির বিকল্প নেই।
৪.


অর্থনীতির মৌলিক বিষয়গুলো নিয়ে এরপরেও আগ্রহ থাকলে সেরা বইটি হচ্ছে, আবদুল বায়েস ও মাহবুব হোসেনের ‘গল্পে গল্পে অর্থনীতি’। খুবই সাধারণ পাঠকদের কথা ভেবে লেখা। আবদুল বায়েস জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং প্রয়াত মাহবুব হোসেন ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। বৈঠকি ঢং-এ লেখা পুরো বই। অর্থনীতির নানা বিষয় বোঝাতে দুই লেখক লেখার মধ্যে গল্প বলেছেন, কবিতার উদ্ধৃতি দিয়েছেন, বিচরণ করেছেন সাহিত্যের নানা শাখায়। মূল লক্ষ্য অর্থনীতিটি বোঝানো। বইটি প্রকাশ করেছে এ এইচ ডেভেলপমেন্ট পাবলিশিং হাউজ।
৫.


এবার বিষয়ভিত্তিক কিছু বইয়ের প্রসঙ্গ। বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার নির্ধারণের নানা তত্ত্ব, ব্যবস্থাপনা ও বিনিময় ব্যবসা পরিচালনার রীতিনীতি, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বিভিন্ন নিয়ন-কানুন, অর্থায়ন, আমদানির পদ্ধতি, ঋণপত্র, রপ্তানির দলিলপত্র প্রণয়ন-এ রকম অনেক বিষয় আছে। এসব বিষয়ের ক্ষেত্রে গাইড বই বলা যায় একটিকেই। আর সেটা হল, ‘ফরেন এক্সচেঞ্জ ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অর্থায়ন’। সৈয়দ আশরাফ আলী বাংলাদেশ ব্যাংকে নির্বাহী পরিচালক ছিলেন। পরে বাণিজ্যিক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছিলেন। বইটির প্রকাশক মাওলা ব্রাদার্স।
৬.


শেয়ারবাজার নিয়ে আগ্রহ আছে এমন মানুষের সংখ্যা অনেক। তবে বুঝেশুনে বা জেনেবুঝে বিনিয়োগ করেন এমন মানুষের সংখ্যা খুব বেশি না। আর শেয়ারবাজার নিয়ে জানার জন্য বাজারে বইয়ের সংখ্যা অগণিত। তবে কাজের বই খুবই কম। অধ্যাপক আবু আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ছিলেন। তিনি লিখেছেন শেয়ারবাজার বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বই। নাম, ‘শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ: জেতার কৌশল’। যারা বিনিয়োগ করছেন বা করবেন ভাবছেন তাদের জন্যই এই বই।

৭.


নতুন যে সময় আসছে তাও তো জানাবোঝা দরকার। ক্লাউস শোয়াব ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) প্রতিষ্ঠাতা ২০১৬ সালে দি ফোর্থ ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেভল্যুশন নামে একটি বই লিখেছিলেন। ৩৩টি ভাষায় এটি অনূদিত হয়েছে এবং অন্যতম বেষ্ট সেলার। এটি সেই বইটির ভূমিকা। এরই অনুবাদ বের হলো এবার বাংলাদেশে। চতুর্থ শিল্প বিপ্লব নামে এই বইটি অনুবাদ করেছেন ওয়ালি-উল-মারূফ মতিন। বইটির ভূমিকায় বলা আছে, আমরা এখন চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যুগে পদার্পণ করেছি। মানবজাতি ও মানবসভ্যতা অতীতে এমন বিস্ময়কর পরিবর্তন এবং অভূতপূর্ব রূপান্তর আর কখনো প্রত্যক্ষ করেনি। বইটির প্রকাশক মাতৃভাষা প্রকাশ।
৮.


বাংলা ভাষায় গবেষণা প্রবন্ধ তেমন নেই বললেই চলে। অনেক অর্থনীতিবিদই বাংলায় বিশ্লেষণধর্মী বই লিখতে তেমন উদ্যোগী হননি। এর অভাব পূরণ করতেই অর্থনীতিবিদ, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা সংস্থা বা বিআইডিএসের সাবেক গবেষণা পরিচালক রুশিদান ইসলাম রহমান লিখেছেন এ রকম এক গ্রন্থ। ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নয়ন’ নামের বইটি মূলত বাংলাদেশেরে স্বাধীনতার পরের ৪০ বছরের অর্থনীতির একটি বিশ্লেষণ। ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, বিষয় নির্বাচনে ও আলোচনার পরিধি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অর্থনীতি এবং বাংলাদেশের অর্থনীতির পাঠক্রমের দিকে মনোযোগ দেওয়া হয়েছে। কাজেই একেবারেই পাঠ্যপুস্তক না হলেও এটা ছাত্রছাত্রীদের জন্য সহায়ক হবে। বইটির প্রকাশক সাহিত্য প্রকাশ।
৯.
আকবর আলি খানের বইয়ের উল্লেখ না থাকলে এই লেখা অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। ২০০০ সালে ইউপিএল থেকে যখন প্রথম পরার্থপরতার অর্থনীতি বইটি বের হয় তখন তিনি রীতিমতো একজন সরকারি শীর্ষ আমলা। বইটি সে সময়ে পাঠকদের চমকে দিয়েছিল। বৈঠকি মেজাজে লেখা বইটিতে অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় তিনি অত্যন্ত সহজ ভাষায় বিশ্লেষণ করেছিলেন। ইতিহাস, গল্প, সাহিত্য, কৌতুক-সব কিছুর মিশেলে এক অনবদ্য অর্থনীতির বই পরার্থপরতার অর্থনীতি।

অবসর নেওয়ার পরে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন, শিক্ষকতা করেছেন, কিন্তু গবেষণা থামাননি। বের করেছেন কেশ কয়েকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ।
আকবর আলি খানের প্রথমা প্রকাশনের আরেকটি উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ হচ্ছে আজব ও জবর-আজব অর্থনীতি। অর্থনীতির বিচিত্র সব বিষয় নিয়ে এই বই। ভূমিকায় বলা আছে, ‘বাংলায় অর্থনীতি এখনো মান্ধাতা আমলের পাঠ্যবিষয় ও বাম-ডানের তরজায় সীমাবদ্ধ। গতানুগতিক গণ্ডির বাইরের কিছু অর্থনৈতিক তত্ত্বের সঙ্গে বাঙালি পাঠকদের পরিচয় করিয়ে দেবে এই বই।
এবার আকবর আলি খানের সর্বশেষ প্রকাশিত বইয়ের তথ্য। ‘দারিদ্র্যের অর্থনীতি: অতীত বর্তমান ও ভবিষ্যৎ’। ভূমিকায় বলা আছে, বইটি লেখা হয়েছে সাধারণ পাঠকদের জন্য, দারিদ্র্য নিরসনের জন্য যাঁরা কাজ করছেন, তাদের জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে দারিদ্র্য নিয়ে যাঁরা পড়ছেন, তাদের জন্য। বাংলাদেশে অর্থনীতির যে কোনো আলোচনায় দারিদ্র্য প্রসঙ্গটি আসবেই। দারিদ্র্যের নানা দিক, এর সংজ্ঞা, পরিমাপের নানা পদ্ধতি, অতীতের প্রেক্ষাপট এবং ভবিষ্যতের দৃষ্টিকোণ-সবকিছুই আছে বইটিতে।


সবশেষে অর্থনীতি নিয়ে ভিন্ন ধরনের এক প্রকাশনার কথা এখানে বলা যেতে পারে। ১৯৮৬ সালে বাংলা একাডেমী ভাষা-শহীদ গ্রন্থমালা নামে বিষয় ভিত্তিক বেশ কিছু গ্রন্থ প্রকাশ করেছিল। এর মধ্যে অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় নিয়েও ছিল একাধিক গ্রন্থ। বইগুলোর সব হয়তো এখন আর পাওয়া যাবে না, তবুও নামগুলো বলে দেওয়া যেতে পারে। যেমন, সাবেক ব্যাংকার ও লেখক রমণীমোহন দেবনাথের ‘ব্যবসা ও শিল্পে বাঙালি’ একটি উল্লেখযোগ্য বই। বইটির নতুন সংস্করণ পরে বের করা হয়েছে। এ ছাড়া আছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর সৈয়দ আলী কবীরের ‘ব্যাংকিং’, অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা কমিশনের সাবেক সচিব শেখ মকসুদ আলীর ‘বাজার’, অর্থনীতিবিদ ও শিক্ষাবিদ হাফিজ গোলাম আজম সিদ্দিকীর ‘বাংলাদেশের শিল্প’ সাবেক সচিব সৈয়দ আবদুস সামাদের ‘পরিকল্পনা’ এবং অর্থনীতিবিদ এস এম মাহফুজুর রহমান ও আবু নাসের খানের লেখা ‘নয়া আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা’।

রেটিং

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Comments

  1. Masum Parvez

    Hello
    where i can get this book.
    শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ জেতার কৌশল-আবু আহমেদ

  2. Post
    Author
  3. Masum Parvez

    Dear Mr.Masum,
    i have checked with rokomari and this book is not available with them, could you please advise the publishers name of this book: শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ জেতার কৌশল-আবু আহমেদ

    Best Regards,
    Masum

  4. Post
    Author

Leave a Reply

Your email address will not be published.