টিকে থাকুক সোনার স্বর্ণযুগ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Reading Time: 6 minutes

স্বর্ণ বা সোনা নিয়ে জীবনের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্যের গল্পটা আগে বলি। একবার এক লোক তাঁর জীবনের সব ধনসম্পত্তি সোনার মোহর বানিয়ে নিয়ে জাহাজে চড়লেন। মাঝসমুদ্রে উঠল ভয়াবহ ঝড়। সতর্কঘণ্টি বাজল। সোনার মোহরভর্তি থলেটা কোমরে বেঁধে লোকটি ছুটে উঠে এলেন জাহাজের ডেকে। আর কোনো উপায় না দেখে একসময় জীবন বাঁচাতে সমুদ্রে ঝাঁপ দিলেন। ঝাঁপ দেওয়ামাত্রই কোমরে বাঁধা থলেটার ভারে গভীর সমুদ্রে তলিয়ে গেলেন লোকটি।
১৯ শতকের শেষদিকে বিশিষ্ট চিন্তাবিদ জন রাসকিন গল্পটা বলার পর প্রশ্ন করেছিলেন, ‘এবার বলুন, লোকটা যখন ডুবছিল তখনো কি সোনার মোহরগুলো আগের মতোই কাঙ্ক্ষিত হয়ে তাঁর কোমরে জড়ানো ছিল? নাকি সোনার মোহরগুলো লোকটাকে বাঁচাতে পেরেছিল?’
রাসকিনের এই গল্পটি দিয়েই বইটি শুরু করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিবিদ পিটার এল বার্নস্টেইন। পিটার বিখ্যাত হয়ে আছেন আর্থিক খাতের ইতিহাস লেখার জন্য। তাঁর বিখ্যাত বইটির নাম দ্য পাওয়ার অব গোল্ড: দ্য হিস্টোরি অব অ্যান অবসেশন। বাংলায় বলা যায়, স্বর্ণের ক্ষমতা: মোহাচ্ছন্নতার ইতিহাস।
এক টুকরো ধাতু কী করে মানুষের মধ্যে মাদকের আসক্তি কিংবা সার্বক্ষণিক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি করে, এক টুকরো ধাতুর জন্য মানুষ কীভাবে নিজেকে রাজাধিরাজ কিংবা নিঃস্ব মনে করে—সেই গল্পের বয়ান মূলত বইটিতে। পিটার লিখেছেন, সোনা অর্থকে অনর্থ করে, রাজরাজড়ার ভাগ্য নিয়ন্ত্রণ করে, সবচেয়ে মহৎ শিল্পকর্মের অনুপ্রেরণা জোগায়, নৃশংসতার কারণ হয়। আবার সোনা মানুষকে সম্পদশালী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে জীবনের কঠিন সংগ্রামের দিকে ঠেলে দেয়। সেই সংগ্রামে জয়ী হতে পারা না-পারার দুর্বিষহ অনিশ্চয়তার দিকেও ঠেলে দেয় এই সোনা।
বলা হয়, কলম্বাস যখন প্রথম আমেরিকা আবিষ্কার করেন, তিনিও তখন সেখানে হন্যে হয়ে সোনা খুঁজে বেরিয়েছেন। পাওয়ার পর উত্তেজনায় চিৎকার করে বলেছেন, ‘ওহ্, পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ সোনা এটাই।’
চার কারণে সোনার এত বন্দনা। হলুদ এই ধাতুটি দুষ্প্রাপ্য, এর উপযোগিতা অনেক বেশি, রয়েছে সৌন্দর্য এবং কোনো কিছুতেই নষ্ট হয় না। এই চার কারণেই সোনার এত দাম। সোনা এমন এক ধাতু, যেটাকে গলিয়ে যেমন ইচ্ছা তেমন আকার দেওয়া যায়। আবার ফিরিয়ে আনা যায় আগের অবস্থানে।
বলা হয়, ২০ কোটি বছর ধরে টানা উল্কাবৃষ্টির ফলে তৈরি হয়েছে সোনা। অনেকে বিশ্বাস করেন, বড় ধরনের ভূমিকম্পের কারণেও পানি থেকে সোনা তৈরি হয়। বিশ্বাস করা হয়, পৃথিবীতে যত সোনা আছে তার ৮০ শতাংশই এখনো উত্তোলন করা হয়নি। সাগরের নিচে এখনো আছে দুই কোটি টন সোনা, যার বড় অংশই উত্তোলন করা যাবে না। তারপরও এখন পর্যন্ত যত সোনা পাওয়া গেছে, তা দিয়ে অলিম্পিকের তিনটি সুইমিংপুল ভরে ফেলা যাবে। উত্তোলিত সোনার প্রায় অর্ধেকই কিন্তু পাওয়া গেছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। সোনা পাওয়া যায় ১০, ১২, ১৪, ১৮, ২২ ও ২৪ ক্যারেটের। ক্যারেট যত বেশি, সোনা তত বেশি নিখুঁত।
সোনা নিয়ে অসংখ্য গালগল্প ছড়িয়ে আছে। ছোট্ট করে এর দুটি বলি। জেমস উইলসন মার্শাল কাঠের কাজ করতেন। ক্যালিফোর্নিয়ার কলোমাতে নদীর পাশে কাঠ চেরাইয়ের জন্য একটা স মিল তৈরির কাজ পেয়েছিলেন। মিলটার মালিক ছিলেন জো.হান শাটার। সময়টা ছিল ১৮৪৮ সালের ২৪ জানুয়ারির সকাল। মার্শাল কাজ করতে গিয়ে মিলের ঠিক লাগোয়া নদীতে নেমেছিলেন। হঠাৎ দেখেন চকচক করছে এমন উজ্জ্বল কিছু কণা। খনিজ সম্বন্ধে তাঁর কিছুটা ধারণা ছিল। বুঝতে পারলেন, সোনা খুঁজে পেয়েছেন। নিয়ে গেলেন সহকর্মী স্কটের কাছে। এই হচ্ছে ক্যালিফোর্নিয়ার সেই বিখ্যাত গোল্ড রাশের ইতিহাস। যদিও কেউ কেউ মনে করেন খেলতে গিয়ে আসলে সোনা আবিষ্কার করেছিল মিলের বাবুর্চি পিটার উইমারের ছেলে জন উইমার। সোনা পেয়ে ছুটে গিয়ে বাবা ও মার্শালকে দেখায় সে।
সোনা পাওয়ার সেই খবর ছড়িয়ে যায় সারা বিশ্বে। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন রাজ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে তিন লাখ মানুষ সোনার সন্ধানে ছুটে গিয়েছিল ক্যালিফোর্নিয়ায়। ১৮৪৯ সালে বেশি মানুষ গিয়েছিল বলে তাদের নাম দেওয়া হয় ফোর্টি নাইনারস। কিছু মানুষ সোনা পেয়ে বিশাল সম্পদ গড়ে তুললেও অধিকাংশ পায় সামান্যই। তবে এর প্রভাব ছিল অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। ছোট্ট একটা বসতি ছিল, বিপুল মানুষের চাপে তা বিশাল নগরীতে পরিণত হয়। বড় বড় খনি কোম্পানি হাজির হয়। রাস্তাঘাট তৈরি হয়। রেললাইন বসে। বিস্তৃতি ঘটে ক্যালিফোর্নিয়ার। ১৮৫০ সালে ক্যালিফোর্নিয়া যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গরাজ্যের স্বীকৃতি পায়।
গোল্ড রাশ থেকে খালি হাতে চলে যেতে হয়েছিল কাকে জানেন? মিলের মালিক জোহান শাটার ও জেমস উইলসন মার্শালকে। আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল সে সময়। রেড ইন্ডিয়ানরা উচ্ছেদ হয়ে যায় সোনার কারবারিদের চাপে।

প্রাচীন সভ্যতার একটি ইনকা। দক্ষিণ আমেরিকার এখনকার পেরু, বলিভিয়া, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়া নিয়ে ছিল তখনকার ইনকা সাম্রাজ্য। এই ইনকা নিয়েও রয়েছে অনেক গল্প। তবে সবচেয়ে বিখ্যাত মিথটি হচ্ছে সোনার গুপ্তধন নিয়ে। বলা হয়, ইনকা সভ্যতা গড়েই উঠেছিল সোনার ওপর। ইনকাদের শেষ সম্রাট ছিলেন আতাহুয়াল্পা। স্পেনের জেনারেল ফ্রান্সিসকো পিজারো সম্রাটকে বন্দী করলে ইনকারা মুক্তিপণ হিসেবে ৬০ ঘনমিটার সোনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়। সোনা নিয়ে রওনাও দিয়েছিল তারা। কিন্তু আগেই ফ্রান্সিসকো পিজারো হত্যা করে ইনকা সম্রাটকে। ব্যাপারটা আগে থেকেই টের পেয়ে সম্রাট আতাহুয়াল্পা সোনার সুতো তৈরি করেছিলেন। সেই সুতোয় গিঁট বা গেরো ছিল তেরোটি। সম্রাট সেটি গোপনে পাঠিয়ে দেন নিজ পরিবারের কাছে। সেই গেরোতেই ছিল সোনা লুকানোর আসল নির্দেশনা। সে অনুযায়ী সম্রাটের লোকেরা সমস্ত সোনা লুকিয়ে ফেলে এলসিঞ্জি নামের এক আগ্নেয় পর্বতের জ্বালামুখের মধ্যে। বলা হয়, সেই সোনা এখনো চাপা পড়ে আছে সেখানে। ৪০০ বছর ধরে সেই সোনা খুঁজে বেড়াচ্ছেন সোনাসন্ধানীরা।
সোনার মাহাত্ম্য নিয়ে যতই কথা বলি না কেন, সোনার কারবারিরা কিন্তু এর ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন খানিকটা চিন্তিত। ভাবা যায়, সোনার ভবিষ্যৎ নিয়েও শঙ্কা! কারণ, সোনার দাম কমে যাচ্ছে। দামি সোনার দাম কমে গেলে তো চিন্তা হবেই। আবার দাম কমে যাওয়ার খবর শুনে খুশি হচ্ছেন এমন মানুষের সংখ্যাও কম নয়। গৃহিণীরা চট করে চলে যেতে পারবেন গয়নার দোকানে। খুশি হবেন টেলিভিশন সিরিজ দ্য এ টিম–এর মিস্টার টি কিংবা ভারতীয় সংগীতশিল্পী বাপ্পী লাহিড়ী। কারণ, তাঁরাও যে সোনার গয়নার অনেক বড় ভক্ত। বলা হয়, মিস্টার টিয়ের সোনার গয়নাই আছে ১ লাখ ২০ হাজার ডলারের। অবশ্য বাপ্পী লাহিড়ীর হিসাবটি জানা গেল না।
সোনা সব সময়েরই আলোচনার বস্তু। তবে সোনার দামে নিত্য ওঠানামার কারণে কয়েক মাস ধরে একটু বেশিই আলোচনা হচ্ছে। চীনের মুদ্রা ইউয়ানের অবমূল্যায়ন হলো, আর অমনি কমে গেল সোনার দাম। চীনের পুঁজিবাজারে ধস, আবারও কমল সোনার দাম। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ নীতিনির্ধারণী সুদের হার কমাবে কি কমাবে না, সেই দোদুল্যমানতায় আবারও কমছে সোনার দাম। সোনার দাম এখন আউন্সপ্রতি ১ হাজার ১০০ ডলারের কম-বেশি। সর্বশেষ এর চেয়ে কম দর ছিল ২০১১ সালে। অনেকেরই ধারণা, সোনার দর আরও কমে এক হাজার ডলারের নিচে নেমে যেতে পারে। বিশ্ববাজারে সোনার দাম নির্ধারণ হয় আউন্স হিসেবে। এক আউন্স সোনা ৩১ দশমিক ১০৩ গ্রামের সমান। আর এক ভরি সোনায় আছে ১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম।
সব সময়ই সোনা হচ্ছে নিরাপদ সঞ্চয়। এর কোনো ক্ষয় নেই। সোনা এমনই এক পণ্য, যার সংরক্ষণমূল্য অনেক বেশি। সাধারণত অনিশ্চয়তার সময় সোনার ওপর নির্ভরতা বেশি বাড়ে। বিশ্বজুড়ে মানুষ তিন খাতে বিনিয়োগ করে। যেমন: শেয়ারবাজার, মুদ্রার মধ্যে মূলত ডলার ও সোনা। অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা থাকলে, রাজনীতি টালমাটাল হলে অনেকেই ডলার বা শেয়ারের তুলনায় সোনা কিনে রাখতে পছন্দ করেন। তবে সোনার অসুবিধাও কম নয়। কেবল দাম বেড়ে যাওয়া ছাড়া সোনা থেকে বাড়তি আর কোনো আয় নেই। অথচ সোনা সংরক্ষণ করার খরচ আছে। বহনেও সমস্যা।
ইউরোপিয়ান অর্থনীতি মন্দা কাটাতে পারছে না। এশিয়ায়ও শ্লথগতি। কেবল মার্কিন অর্থনীতিই যথেষ্ট শক্তিশালী। ফলে ডলার এখন সবচেয়ে শক্তিশালী মুদ্রা। গত এক বছরে ডলারের মুদ্রামান বেড়েছে ২০ শতাংশেরও বেশি। সোনার দর নির্ধারিত হয় এই ডলারেই। এ কারণে সোনার দাম কমছে। মনে করা হচ্ছে, সামনের দিনগুলোতেও ডলারেই মুনাফা বেশি হবে। অর্থাৎ সোনার দাম আপাতত হয়তো কমই থাকবে।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা ব্যবহার হয় গয়না তৈরিতে। এরপরই সোনার ব্যবহার বেশি বিভিন্ন ধরনের বিনিয়োগ স্কিমে। অর্থনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করতে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক সোনা মজুত করে। আর এরপরেই আছে ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন শিল্প ও কারিগরি খাতে সোনার ব্যবহার। একসময়ে মুদ্রামান ঠিক রাখতে সোনার ব্যাপক ব্যবহার ছিল। এখন তা নেই।
ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের হিসাবটি বলা যায়। ২০১৪ সালে মোট সোনার চাহিদা ছিল ৪ হাজার ২২০ দশমিক ১ টন। এর মধ্যে গয়নায় ব্যবহার হয়েছে ২ হাজার ৪৬২ দশমিক ৯ টন, বিনিয়োগ স্কিমে ৮২০ দশমিক ২ টন, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো কিনেছে ৫৯০ দশমিক ৫ টন এবং শিল্পে ব্যবহার হয়েছে আরও ৩৪৬ দশমিক ৫ টন।
এই যে হাজার হাজার টনের সোনা, এর দর অর্থমূল্য কত? ২০১৪ সালে সোনার যে চাহিদা ছিল তার আর্থিক মূল্য হচ্ছে ১৭ হাজার ১৮২ কোটি ৬৩ লাখ ডলার। এর মধ্যে গয়নায় ব্যয় হয়েছে ১০ হাজার ২৭ কোটি ৯৪ লাখ ডলার, বিনিয়োগ স্কিমে ৩ হাজার ৩৩৯ কোটি ৪৩ লাখ ডলার, কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিনেছে ২ হাজার ৪০৪ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের সোনা এবং শিল্প খাতে ব্যবহার হয়েছে আরও ১ হাজার ৪১০ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের সোনা।
বিশ্বে সবচেয়ে বেশি সোনা কিন্তু ব্যবহার হয় পাশের দেশ ভারত ও চীনে। মোট সোনার অর্ধেকই এই দুটি দেশে আছে। বলাই বাহুল্য এই সোনা মূলত ব্যবহার হয় গয়নায়। আর এ ক্ষেত্রে সবার ওপরে ভারত। কোনো বছর যদি ভারতে ফসল ভালো না হয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতে আয় কমে যায়, তাহলে গয়না বিক্রিও কম। এখন যেমন হচ্ছে। ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে হিন্দু পঞ্জিকা অনুযায়ী ১১ জুন থেকে ১ নভেম্বর পর্যন্ত বিয়ের জন্য ভালো শুভলগ্ন নেই। সবার অপেক্ষা এখন নভেম্বরের জন্য। সুতরাং যাঁরা গয়না কিনতে চান, তাঁরা কিন্তু নভেম্বরের পরে উচ্চ চাহিদার মধ্যে পড়ে যাবেন। এতে গয়নার দাম বাড়তেও পারে।
চীনারা মনে করে, সোনা সৌভাগ্য আর উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিয়ে আসে। এ কারণে দেশটিতে সোনার নানা ধরনের গয়না উপহার দেওয়ার প্রচলন খুব বেশি। চীনের অবস্থাপন্ন ঘরের শিশুরা আক্ষরিক অর্থেই জন্ম নেয় সোনার চামচ মুখে নিয়ে। ঠিক সোনার চামচ নয়, সোনার কাঠি বা চপস্টিক। সোনার দোকানের জন্য চীনের সবচেয়ে বিখ্যাত এলাকা হচ্ছে সাংহাইয়ের পূর্ব নানজিং রোড। সেখানকার গয়নার দোকানগুলোতে সব সময়ই লেগে থেকে বেজায় ভিড়।
গয়না ব্যবহার বেশি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। বিশেষ করে সেখানে এনগেজমেন্ট রিং ও ওয়েডিং ব্যান্ডের বিশাল চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া তুরস্ক ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় প্রচুর সোনার গয়না বিক্রি হয়। তবে দুবাইয়ে ভিন্ন কারণে এখন সোনার বিক্রি কিছুটা হলেও বেড়ে গেছে। দেশটির ছোট ছোট ছেলেমেয়ে স্থূল হয়ে যাচ্ছে। এটা ঠেকাতে ২০১৪ সালে দেশটির সরকার ঘোষণা দিয়েছে যে প্রতি কিলোগ্রাম (২ দশমিক ২ পাউন্ড) ওজন কমলে দেওয়া হবে এক গ্রাম সোনা, যার দাম ৪২ ডলার। দুবাইয়ের এই কর্মসূচিটির নাম ‘ইয়োর চাইল্ড ইন গোল্ড’। দেখলেন তো, সোনার কত রকমের ব্যবহার!
সবশেষে ছোট্ট একটা সতর্কবাণী। সোনার যেমন আকর্ষণ আছে, উল্টোটাও আছে। তার নাম অরোফোবিয়া। সোনার রাসায়নিক নাম অরাম। লাতিন শব্দ অরোরা থেকে এটি এসেছে। অরোফোবিয়া রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা সোনা দেখতেই পারেন না, দেখলে অসুস্থ হন। আশা করছি, সাধ্য থাকুক আর না-ই থাকুক, সোনার প্রতি ভালোবাসাই থাকবে সবার, ভীতি নয়। টিকে থাকুক সোনার স্বর্ণযুগ।

২০১৫, ২১ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোর ঈদ উপহার সংখ্যায় প্রকাশিত

রেটিং

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Leave a Reply

Your email address will not be published.