পছন্দের দুই সিনেমা: বিষয় রাজনীতি

69

১. দা বাদের মেইনহফ কমপ্লেক্স: ৭০ এর দশকে সে সময়ের পশ্চিম জার্মানিকে কাঁপিয়ে দিয়েছিল রেড আর্মি ফ্যাকশন (আরএএফ)। চরম বামপন্থী একটি শহুরে গেরিলা গ্রুপ। সরকারি ভাষায় এরা ভয়ঙ্কর সন্ত্রাসী গ্রুপ।আর তাদের সহায়তা দিতো পূর্ব জার্মানির নিরাপত্তা সংস্থা স্টাসি। তবে আমাদের মতো করে বলা যায় এরা আসলে ছিল নকশালদের মতোই।এবং অবশ্যই চীনাপন্থী।

১৯৭০ সালে আন্দ্রিয়াস বাদের আর উলরিখ মেইনহফ, গুডরুন এনস্লিন ও হর্স্ট মাহলের (উচ্চারণ ভুল হওয়ার সম্ভাবনা বেশি) এর প্রতিষ্ঠাতা। এর মধ্যে মেইনহফ ছিলেন একজন সাংবাদিক। মূলত মার্কিন নীিতর প্রবল সমালোচক ছিল তারা। জার্মান সরকার মার্কিন নীতিতে চলছে বলে তাদের সমালোচনা ছিল। ছিল স্বাধীন প্যালেস্টাইন আন্দোলনের সমর্থক এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধের প্রবল বিরোধিতা।

২০০৮ সালের বিখ্যাত এই সিনেমা মূলত বাদের, মেইনহফ আর গুডরুনের কাহিনী। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত।১৯৬৭ সালে ইরানের শাহ–এর জার্মানী সফরের সময় তাঁর বিরুদ্ধে হওয়া ছাত্র আন্দোলন থেকে সিনেমার শুরু।খুবই বিখ্যাত সিনেমা। আমি নিশ্চিত এই সিনেমা দেখার পর বিষয়টি নিয়ে পড়াশুনার আগ্রহ বেড়ে যাবে। চাইলে এই সিনেমাটি নিয়ে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লেখা যায়।এর চেয়ে বরং সিনেমাটা দেখা নেওয়াই ভালো।

২. ‘৭১: ৭০–এর দশকে উত্তাল সময় গেছে ইউরোপের আরও অনেক দেশে। তবে প্রভাবের দিক থেকে নর্দান আয়ারল্যান্ডের আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (আইআরএ) সবচেয়ে আলোচিত।যুক্তরাজ্য থেকে নর্দান আয়ারল্যান্ডকে স্বাধীন করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য।এ লক্ষ্যে আইআরএ যে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করেছিল তার নাম হচ্ছে ‘দ্য ট্রাবলস’। সংঘাতটা ছিল প্রোটেস্ট্যান্ট ও ক্যাথলিকদের মধ্যে।তবে এই সংঘাতের কারণ ধর্ম ছিল না। মূলত প্রোটেস্ট্যান্টরা ছিল বেশিরভাব ব্রিটিশ নাগরিক, তারা চায় আয়ারল্যান্ড ব্রিটিশদের অধীনেই থাকুক। আর ক্যাথলিকরা স্বাধীনতার পক্ষে।

আইআরএ আবার দুটো গ্রুপ। অফিসিয়াল আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (ওআইআরএ) এবং প্রভিশনাল আইরিশ রিপাবলিকান আর্মি (পিআইএরএ)।আর সেখানের পুলিশ সংস্থার নাম রয়্যাল উলস্টার কনস্টাবুলারি।আর তাদের সহায়তা করতে নিয়োগ দেওয়া হয় ব্রিটিশ আর্মি। এখানেই শেষ নয়। আরেকটা পক্ষ ছিল। মিলিটারি রিঅ্যাকশন ফোর্স (এমআরএফ)–ব্রিটিশ আর্মির একটি গোপন সংস্থা, যাদের কাজ ছিল বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ঠেকানো। 

ঘটনাটা ১৯৭১ এর। গ্যারি হুক, ব্রিটিশ আর্মির নতুন রিত্রুট। শুরুতেই ডিউটি পরে, বেলফাস্টে, দাঙ্গায় ডিউটি। দায়িত্ব পরে এমন এক জায়গায় যেখানে প্রটেস্ট্যান্ট আর ক্যাথলিকরা পাশাপাশি বসবাস করে। সেখানে দাঙ্গার মধ্যে ফেঁসে যায় গ্যারি হুক। দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে চরম বিপদে পড়ে। আইআরএ খুঁজতে থাকে। পালায় গ্যারি। এর মধ্যে জড়িয়ে পরে নানা ঘটনায়।পলিটিক্যাল থ্রিলার হিসেবে দারুণ।

ভালো লাগলে
[Total: 2   Average: 5/5]
শেয়ার করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published.