স্বজাতি কুকুর ও সেই সব যুদ্ধবন্দী

23

একাত্তরের সংকটের জন্য কিছু লোক সেনাবাহিনীকে দায়ী করেছে, আবার কেউ কেউ দায়ী করছে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে। বাংলাদেশের অনেক রাজনৈতিক নেতাও আমাদের সঙ্গে ছিলেন। এমনকি বাংলাদেশের মানুষ এখনো বিশ্বাস করে যে আমরা সঠিক ছিলাম। গোলাম আজম সাহেবসহ সাধারণ মানুষ এখনো মনে করেন না আমরা ভুল করেছি।’
১৯৮৮ সালে ইসলামাবাদে জেনারেল টিক্কা খানের এই সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন মুসা সাদিক। মুসা সাদিক মুজিবনগর সরকারের যুদ্ধ সংবাদদাতা ছিলেন। আর এই সাক্ষাৎকারটি পেলাম তাঁর বই ‘বাংলাদেশ উইনস ফ্রিডম’-এ।

এটুকু পড়তে পড়তেই মনে পড়ে গেল যতীন সরকারের ‘পাকিস্তানের জন্মমৃত্যু-দর্শন’ বইটির কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় রুকন উদ্দিন মুন্সী নামের এক ধর্মপ্রাণ মানুষের সঙ্গের কথোপকথন তিনি তুলে দিয়েছিলেন।
‘……কুকুর মানুষের এতো উপকার করে, তবু কুকুরের ছোঁয়া লাগলে অজু নষ্ট হয়ে যায় কেন বলতে পারেন?’
‘তা আমি কি করে বলবো? এর জবাব তো আপনিই ভাল জানেন’।
‘তা হলে শুনুন। কুকুর মানুষের উপকার করে ঠিকই, কিন্তু তার স্বজাতিকে সে দু’চোখে দেখতে পারে না। পরজাতি মানুষের জন্য কুকুর জান দেয়, কিন্তু স্বজাতির কাউকে দেখলেই তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে, কামড়াকামড়ি করে। কুকুর তার স্বজাতিকে অর্থাৎ অন্য কুকুরকে ভালবাসে-এরকম আপনি কোখাও দেখতে পাবেন না। স্বজাতিকে এমন হিংসা করে বলেই কুকুর প্রাণীটা একেবারে না-পাক।’
একটু থেমে আবার সেই মহাকুমা শহরের শান্তি কমিটির চাঁইদের কথা তুললেন রুকন উদ্দিন মুন্সী। বললেন,‘ওরাও ওই কুকুরের মতো। ওরা পরজাতি পাকিস্তানিদের জন্যে জান কোরবান করতে নেমেছে স্বজাতি বাঙালিদের সর্বনাশ করে। ওরাও না-পাক। যতো বড়ো আলেমই হোক এরা, এদের পিছনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়লে তা কবুল হবে না কিছুতেই।’

এই কুকুরগুলোর কর্মকান্ড কমবেশি সকলেরই জানা। এ নিয়ে অসংখ্য লেখা আছে। পাকিস্তানিরাও কিন্তু অল্প হলেও কিছু লিখেছেন। এরকম একটি বই হচ্ছে সিদ্দিক সালিকের ‘উইটনেস টু সারেন্ডার।’ সিদ্দিক সালিক ১৯৭১ সালে তিনি প্রথমে টিক্কা খান ও পরে নিয়াজীর জনসংযোগ কর্মকর্তা ছিলেন।
তিনি লিখেছেন, ‘…..‘দেশপ্রেমিক’ পাকিস্তানিদের খবরের ওপর ভিত্তি করে তারা প্রায়শই ‘সন্ধান উচ্ছেদকরণ অপারেশন’ চালাতে লাগলো। খবর সরবরাহকারীদের মধ্যে কেউ কেউ পাকিস্তানের সংহতির ব্যাপারে সত্যিকার অর্থেই আগ্রহী ছিল এবং সেনাবাহিনীকে সহযোগিতার জন্য জীবনের ঝুঁকিও নিত। কিছু অবশ্য আওয়ামী লীগপন্থীদের নিজেদের পুরানো ক্ষত মীমাংশার জন্য সেনাবাহিনীর সাথে নিজেদের যোগাযোগকে ব্যবহার করতো। দৃষ্টান্তস্বরূপ, একদিন একজন দক্ষিনপন্থী রাজনীতিক একটি তরুণকে সঙ্গে নিয়ে সামরিক আইন সদর দফতরে আসে। বারান্দাতে হঠাৎ করেই তার সাথে আমার দেখা। আস্থাভরে ফিসফিসিয়ে সে বললো, ‘বিদ্রোহীদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ কিছু খবর তার কাছে আছে।’ আমি তাকে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে নিয়ে গেলাম। সেখানে গিয়ে সে বললো, ‘বালকটি তার ভাইয়ের ছেলে। সে বুড়িগঙ্গা নদীর অপর পার কেরানীগঞ্জের বিদ্রোহীদের বন্দী শিবির থেকে পালিয়ে এসেছে।’ বালকটি আরো বললো, ‘বিদ্রোহীরা শুধু স্থানীয় লোকজনদের হয়রানিই করছে না-রাতে শহর আক্রমনের পরিকল্পনা নিয়েছে।’
তৎক্ষনাৎ উচ্ছেদকরণ অপারেশনের আদেশ দেওয়া হয়। আক্রমণকারী সৈন্যদের কমান্ডারকে ব্রিফ করা হলো। ভোর হবার আগেই ল্যকে নমনীয় করার উদ্দেশ্যে গোলাবর্ষনের জন্য ফিল্ডগান, মর্টার ও রিকয়েললেস রাইফেলস প্রস্তুত করা হলো। স্থানটি সকাল হবার আগেই দখল করবার জন্যে সৈন্যরা সাঁড়াশি অভিযান চালাবে।

যে অফিসার হামলা পরিচালনা করে, সন্ধ্যায় তার সাথে দেখা করলাম। সে যা বললো, তাতে আমার রক্ত হিম হয়ে গেল। দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে সে বললো, ‘ওখানে কোনো বিদ্রোহী ছিল না। ছিল না অস্ত্রও। শুধু গ্রামের গরিব লোকেরা-অধিকাংশ নারী এবং বৃদ্ধ। গোলার আগুনের মাঝে পুড়ে দগ্ধ হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনক এই যে, গোয়েন্দা মারফত সঠিক সংবাদ সংগ্রহ না করেই এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। আমার বিবেকের ওপর এ ভার আমি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত বয়ে বেড়াবো।’

তারপরেও দেশ স্বাধীন হল। ১৭ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু ফিরলেন দেশে। দেশ চালানোর ভার নিলেন। ২৪ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতির আদেশে গঠিত হয় বাংলাদেশ দালাল (বিশেষ ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭২।
১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বর সরকারি প্রেসনোটের মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার কথা জানানো হয়। একইসঙ্গে দালাল আইনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়। (১৯৭৩ সালের ৩০ নভেম্বরের আগে পর্যন্ত দালাল আইনের মামলাগুলোয় ৩৭ হাজার ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছিল। সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার মাধ্যমে এদের ২৬ হাজার ছাড়া পেয়ে যায়। আর ১১ হাজার দালাল বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ভোগ করেছিল। কিন্তু ১৯৭৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি বিচারপতি এএসএম সায়েম ও জেনারেল জিয়ার সামরিক সরকার পুরোপুরি দালাল আইন বাতিল করার পর ১৯৭৬ সালের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতেই আপিল করে এরা সব ছাড়া পেয়ে যায়। ছাড়া পাওয়া দালালদের মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যার আসামিরাও ছিল।)

প্রশ্ন হচ্ছে কেন বঙ্গবন্ধু এতখানি নমনীয় হয়েছিলেন দালালদের প্রতি। কেনই বা ১৯৫ জন যুদ্ধবন্দীদের বিচার করতে পারলেন না।
‘ঢাকা এয়ারপোর্ট থেকে সোজা গেলাম গণভবণে। তাঁর প্রেস সেক্রেটারি তোয়াব খান আমাকে নিয়ে গেলেন তাঁর অফিস কক্ষে। কয়েকজন মন্ত্রী তখন সেখানে উপস্থিত। তিনি আমাকে একান্তে ডেকে নিলেন। বললেন, এখনি একটা সরকারি ঘোষণার খসড়া তোমাকে লিখতে হবে। পাকিস্তানীদের মধ্যে কোলাবরেটর হিসেবে যারা দন্ডিত ও অভিযুক্ত হয়েছেন, সকলের জন্যও ঢালাও ক্ষমা (জেনারেল এ্যামনেষ্টি) ঘোষণা করতে যাচ্ছি।
বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করলাম, পালের গোদাদেরও ছেড়ে দেবেন?
তিনি বললেন, হ্যাঁ। সকলকে। কেবল যাদের বিরুদ্ধে খুন, রাহাজানি, ঘরে আগুন দেয়া, নারী-হরণ বা ধর্ষণ প্রভৃতির অভিযোগ রয়েছে, তারা ছাড়া পাবেন না। কেন, ঢালাও ক্ষমা ঘোষণায় তোমার মত নেই?
বললাম, না, নেই। পাকিস্তানীদের অত্যাচারে সাহায্য যোগানের অভিযোগে যে হাজার হাজার লোক বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে, তাদের প্রতি আপনি ক্ষমা প্রদর্শন করুন। আপত্তি নেই। তাদের অনেকেই নিজেদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি সৈন্যদের সাহায্য জোগাতে বাধ্য হয়েছিল। কিন্তু পালের গোদাদের আপনি ক্ষমা করবেন না। এরা বাংলাদেশের শত্রু। এদের বিচার ও দন্ড হওয়া দরকার।

মুজিব হেসে বললেন, না তা হয় না। সকলকেই ছেড়ে দিতে হবে। আমার এ আসনে বসলে তোমাকেও তাই করতে হত। আমিতো চেয়েছিলাম নব্বই হাজার পাকিস্তানী সৈন্যদের ছেড়ে দিয়ে অন্তত ১৯২ জন যুদ্ধাপরাধী অফিসারের বিচার করতে। তাও পেরেছি কী? আমি একটা ছোট্ট অনুন্নত দেশের নেতা। চারিদিকে উন্নত ও বড় শক্তির চাপ। ইচ্ছা থাকলেই কি আর সব কাজ করা যায়?’ (ইতিহাসের রক্তপলাশ: পনের আগস্ট পঁচাত্তর, আবদুল গাফফার চৌধুরী।)

আসলে কি হচ্ছিল তখন?
১৫ এপ্রিল, ১৯৭২। মার্কিণ প্রেসিডেন্ট নিক্সনকে একটি গোপন চিঠি লেখেন ভুট্টো। চিঠিতে তিনি লেখেন, ‘ভারতীয় মদদে শেখ মুজিবুর রহমান এক হাজার ৫০০ যুদ্ধবন্দীর ‘যুদ্ধাপরাধের’ জন্য বিচারের ব্যাপারে বন্ধপরিকর বলে মনে হয়। যদি বাংলাদেশ সত্যি সত্যি তেমন পথে এগোয়, তাহলে তার মারাত্বক প্রতিক্রিয়া হবে পশ্চিম পাকিস্তানে। পশ্চিম পাকিস্তানে লাখ খানেক বাঙালি রয়েছে। এখন পর্যন্ত তাদের সঙ্গে কোনো রকম খারাপ ব্যবহার যাতে না হয় আমরা তা নিশ্চিত করতে পেরেছি। কিন্তু এই পরিকল্পিত বিচার যদি সত্যি সত্যি শুরু হয়, তার ফলে যে তিক্ততার সৃষ্টি হকে তাতে ভারত ও ‘বাংলাদেশের’ সঙ্গে স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি অসম্ভব হয়ে পড়বে।’ (দ্য আমেরিকান পেপারস, পৃষ্ঠা-৮৪২)।

প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পনের পরপরই পাকিস্তানে আটকে পড়া বাঙালিদের ওপর হামলা ও হয়রানি শুরু হয়ে যায়। বাড়ি লুট, ছুড়িকাঘাত ও অন্যান্য ঘটনা মার্চের গোড়ার দিকে এতোটা বেড়ে যায় যে শেখ মুজিব জাতিসংঘের মহাসচিব ওয়াল্ডহাইমের কাছে এ ব্যাপারে হস্তক্ষেপ জানিয়ে আবেদন পত্র লিখতে বাধ্য হন।
সে সময় আফগানিস্তানের ভেতর দিয়ে ভারত হয়ে বাংলাদেশে আসার চেষ্টায় অনেক আটকে পড়া বাঙালি বিপদের সম্মুখীন হচ্ছিলেন। কেউ ডাকাতের হাতে পড়ে সবকিছু খোয়াচ্ছিলেন, কেউ কেউ মারাও গেলেন। যাতে বাঙালিরা দেশত্যাগ করতে না পারে, সেজন্য এ সময় পাকিস্তান প্রতিটি পলায়নরত বাঙালিকে ধরিয়ে দিতে পারলে এক হার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করে। (নিউইয়র্ক টাইমস, ১৩ ডিসেম্বর, ১৯৭২)।

শুরুতে ৯০ হাজার যুদ্ধবন্দী থাকলেও বাংলাদেশ প্রথমে বিচারের জন্য ১৫০০ অফিসার ও সৈন্যকে আটকে রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। পরে তা ছাঁটাই করে ১৯৫-এ নামিয়ে আনা হয়।
বাংলাদেশ এই সিদ্ধান্ত প্রচার করার কিছু পরেই ভুট্টো ২০৩ জন বাঙালিকে ‘গুপ্তচর’ উল্লেখ করে জানান যে, তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে না, বরং নিজ দেশের আইন অনুযায়ী বিচার করবেন।
‘আমরা পাকিস্তানি যুদ্ধবন্দীদের বিচারের কোনো চেষ্টাকে মেনে নেব না। সে চেষ্টা হলে পাকিস্তানে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে এবং আমাদের সে মোতাবেক ব্যবস্থা নিতে হবে। যুদ্ধবন্দীদের বিচার হলে আমাদের এখানে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হবে, তার বিরুদ্ধে শ্রমিক, ছাত্র ও সাধারণ জনতার বিক্ষোভ হবে, সেনাবাহিনীতেও প্রতিক্রিয়া হবে। আমাদের নাকে এভাবে খত দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরা তা মেনে নেবো না। জনমত এখানেও বিচারের দাবি করবে। আরও জানি, বাঙালিরা যুদ্ধের সময় তথ্য পাচার করেছে। তাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হবে।’ (নিউইয়র্ক টাইমস-এর সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ভুট্টো। ২৮ মে ১৯৭৩।)

এ গেলো একটি দিক। আরেকটি দিক হচ্ছে পাকিস্তানের স্বীকৃতি পাওয়া। নানা কারণে সে সময় সরকার এই স্বীকৃতি অর্জনকে অত্যন্ত বড় করে দেখছিলেন। এ নিয়ে অনেক বিস্তারিত জানা যায় হাসান ফেরদৌসের ‘১৯৭১: বন্ধুর মুখ শত্রুর ছায়া’ বইটিতে।
তিনি লিখেছেন, ‘পাকিস্তানের স্বীকৃতি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত জরুরী ছিল একাধিক কারণে। নব্য স্বাধীন দেশটি কাগজে কলমে স্বাধীনতা অর্জন করলেও টিকে থাকার এক মরণপন সংগ্রাম তার মাত্র শুরু হয়েছে। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের ফলে তার অবকাঠামো বিধ্বস্ত, অধিকাংশ বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান মুখ থুবড়ে রয়েছে, শোনা যাচ্ছে দুর্ভিক্ষের অশনিসংকেত। সে সময়ে তার একমাত্র বন্ধু বলতে প্রতিবেশী ভারত ও তারই সূত্রে সমাজতান্ত্রিক সোভিয়েত ইউনিয়ন। বাংলাদেশকে সাহায্য করার ক্ষমতা কারোই অফুরন্ত নয়। তেলসম্মৃদ্ধ আরব দেশগুলো সাহায্যের হাত বাড়ালে অবস্থা খানিকটা বদলায়। কিন্তু পাকিস্তানকে নারাজ করে তাদের কেউ সে পথে পা বাড়াবে না।’

কতগুলো ঘটনার কথা এসময় মনে রাখতে হবে।
১. জাতিসংঘের সদস্যপদ বাংলাদেশ পাচ্ছিলো না চীনের ভেটোর কারণে।
২. ভুট্টো ঘোষণা দেন যে, বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দিলে পাকিস্তান তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে।
৩. আরব দেশগুলো ছিল বৈরি। বাংলাদেশ যাতে স্বীকৃতি না পায় এজন্য ভুট্টো আরবদেশগুলোতে ব্যাপক সফরও করেছিলেন।
৪. বিশ্বব্যাংক এসময় সাহায্য দেওয়া নিয়ে নানা সমস্যা তৈরি করছিল। (এ নিয়ে বিস্তারিত জানা যায় অধ্যাপক নুরুল ইসলামের বইটিতে।)
৫. ভুট্টো এমন অবস্থা তৈরি করেছিলেন যাতে চীন ও আরব দেশগুলো তাকে ছাড়া বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেয়।
৬. যুক্তরাষ্ট্রও তখনও বাংলাদেশের প্রতি নমনীয় না।
৭. আবার ৭৪ এর দিকে এসে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আগের মতো ভাল ছিল না।
৮. যুদ্ধবন্দীদের বিচার করলে পাকিস্তান স্বীকৃতি দেবে না এটা পাকিস্তান স্পষ্টই জানিয়ে দেয়। আর বাংলাদেশ বলতে শুরু করে স্বীকৃতি না দিলে এ নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো বৈঠক হতে পারে না। অর্থাৎ যুদ্ধবন্দী ও স্বীকৃতি একে অপরের পরিপূরক হয়ে পরে।

এর পরের ঘটনা এরকম। ১৯৭৪ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। ২৪ ফেব্রুয়ারি লাহোরে ইসলামি সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন যে যুদ্ধাপরাধের জন্য যে ১৯৫ জন পাকিস্তানি সেনাসদস্যকে বাংলাদেশ চিহ্নিত করেছে তাদের ব্যাপারে একটি সমঝোতায় আসতে তিনি প্রস্তুত। এরপরই ৯ এপ্রিল ভারতে তিনপরে একটি চুক্তি হয়, যাকে বলা হয় দিল্লী চুক্তি। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের ব্যপারে সব দাবি তুলে নেয়।

হাসান ফেরদৌস যেমনটি লিখেছেন, ‘যেভাবেই হোক, পাকিস্তানের সঙ্গে একধরণের সমঝোতায় আসার জন্য যে ক্রমবর্ধিত চাপ, তা সহ্য করার ক্ষমতা সে মুহূর্তে বাংলাদেশের ছিল না।’
ফলে শেষ পর্যন্ত সমঝোতা করতে হয়েছিল বঙ্গবন্ধুকে। তারপরেও ভবিতব্য ঠেকাতে পারেননি তিনি। এই ৭৪ সালেই বড় ধরণের দুর্ভিক্ষ হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা টালবাহানা করে কথা না শোনার প্রতিশোধ নিয়েছে। আরব দেশগুলোও এগিয়ে আসেনি। আর ৭৫-এ তো জীবনই দিতে হল।

ভালো লাগলে
[Total: 0   Average: 0/5]
শেয়ার করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published.